মারকাযুল ইরফান দারুল উলূম বাংলাদেশ
June 09 2026, 04:42
প্রতিষ্ঠানের নাম :- মারকাযুল ইরফান দারুল উলূম বাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা :- মৌচাক, চিটাগাং রোড সংলগ্ন, সিদ্ধিরগন্জ, নারায়ণগন্জ
প্রতিষ্ঠাকাল :- ১৪৪৭ হিজরী
প্রতিষ্ঠাকালিন মুহতামিম :- মুফতি মুঈনুদ্দীন
জামাত সংখ্যা :- প্রতিষ্ঠাকালিন জামাত: ইফতা দুই বছর ব্যাপী। প্রথম বর্ষ উসূলুল ফিকহ। দ্বিতীয় বর্ষ ইফতা।
মাদরাসার বর্তমান অবস্থা বর্ণনা করে আগামীর পরিকল্পনা :- আমাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে যদি সামান্য একটু বলি, তাহলে বলবো: আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু উসূলুল ফিকহ জানা নয়; বরং উসূলের প্রয়োগ শিখা। আজকাল -আলহামদুলিল্লাহ- উসূলুল ফিকহের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। অনেকে দীর্ঘ সময় নিয়েও পড়ছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উসূলের বিষয়গুলো নির্দিষ্ট কিছু উদাহরণে বোঝা ও বোঝানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে দেখা যায়। ফলে উসূল পড়ার আসল স্বাদ ও প্রকৃত ফায়দা অধরাই থেকে যায়। আমাদের প্রয়াস হবে -ইনশাআল্লাহ- এই সীমাবদ্ধতা ভেঙে উসূলকে জীবন্ত করা; কিতাবের পৃষ্ঠায় নয়, মাসআলার ভেতরে তার চলমান প্রয়োগ দেখানো। এই প্রয়োগটা আমরা দুটি পর্যায়ে শিখবো ইনশাআল্লাহ্।
প্রথম পর্যায়: ইখতিলাফী মাসায়েলে উসূলের প্রয়োগ
আমাদের প্রথম অনুশীলন ক্ষেত্র হবে ফুকাহায়ে কেরামের ইখতিলাফপূর্ণ মাসায়েল। একটি নির্দিষ্ট মাসআলা নির্বাচন করে প্রথমে সংশ্লিষ্ট মাসআলার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কেরামগণের মতামতসমূহ একত্র করা হবে। এরপর প্রত্যেক ফকীহর مستدلات (দলীলসমূহ) সংগ্রহ করা হবে। তারপর উসূলের দৃষ্টিতে প্রতিটি দলীলের وجه استدلال বিশ্লেষণ করা হবে।
উদাহরণত, যদি কোনো মাসআলায় ইমাম আযম (রহ.)-এর পক্ষে দশটি নস পাওয়া যায়, তবে আমরা দেখবো—এই নসগুলো ঐ মাসআলা বুঝাচ্ছে কীভাবে? إشارة, عبارة, না اقتضاء—দালালতের কোন পদ্ধতিতে?
এর মাধ্যমে একজন তালিবুল ইলমের মাঝে ধীরে ধীরে ইজরার একটি দক্ষতা তৈরি হবে যেকোনো নস থেকে দালালত নির্ণয়ের একটি সুসংহত অভ্যাস গড়ে উঠবে।
একটি মাফহুম বের করলেই তো মাসআলা সম্পূর্ণ হয় না। বরং সেই মাফহুমের মান, পরিধি নির্ণয়ের জন্য যাহের, নস, মুফাসসার, মুহকাম, খাস ও আম প্রভৃতির প্রকারভেদ সবকিছু বিশ্লেষণ করতে হয়। এরপর সেই মাফহুমকে মাকাসিদে শরঈয়্যার সামনে পেশ করা হবে। মানশায়ে খোদাওয়ান্দির সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। অবশেষে বোঝার চেষ্টা করা হবে একজন ফকীহ কীভাবে নস থেকে হুকুম পর্যন্ত পৌঁছালেন?
এভাবেই আমরা দেখবো একই কোরআন ও হাদীস সামনে থাকা সত্ত্বেও ফুকাহায়ে কেরাম ভিন্ন-ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন কীভাবে? এই অনুশীলনই হবে আমাদের প্রথম পর্যায়ের কাজ।
এই লক্ষ্য সামনে রেখেই আমরা الدارية في كشف ما في شرح البداية নামে হেদায়ার একটি শরাহ সংকলন করেছি। এতে الهداية কিতাবের শুরু থেকে প্রতিটি মাসআলা উসূলের আলোকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং ইজরার পদ্ধতিতে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে, কীভাবে তা কোরআন-হাদীস থেকে উদ্ভূত হয়েছে?
উদাহরণস্বরূপ, অযুর মধ্যে কিছু আছে সুন্নাত, আর কিছু আছে মুস্তাহাব। অথচ রাসূলুল্লাহ ﷺ আলাদা করে বলেননি যে, ‘এটি সুন্নাত’, ‘এটি মুস্তাহাব’। তিনি শুধু আমল করে দেখিয়েছেন। পরবর্তীতে ফুকাহায়ে কেরাম উসূলের ভিত্তিতে এগুলোর স্তর নির্ণয় করেছেন। কীভাবে নির্ণয় করলেন? -তা বিশ্লেষণ করে দেখানো হয়েছে।
যে ছাত্র যাওক ও ইনহিমাকের সাথে এই শরাহ বারবার মুতালাআ করবে, তার ভেতরে ধীরে ধীরে একটি মালাকা (স্বভাবগত দক্ষতা) তৈরি হবে ইনশাআল্লাহ। তখন দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ তার জন্য সহজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
দ্বিতীয় পর্যায়: জাদীদ মাসায়েলে উসূলের প্রয়োগ
বর্তমান যুগে অর্থনীতি, রাজনীতি ও মানবজীবনের নানান ক্ষেত্রে এমন বহু বিষয় এসেছে, যেগুলোর সুস্পষ্ট কোনো সমাধান পূর্ববর্তী ফুকাহায়ে কেরাম পেশ করে যাননি। কোরআন-হাদীসের আলোকে এগুলোর সমাধান আমাদেরই অনুধাবন করতে হবে।
উসূলুল ফিকহ অধ্যয়নের চূড়ান্ত লক্ষ্যই হলো- এমন একজন ফকীহ হওয়া, যিনি নতুন যেকোনো নতুন মাসআলার সঠিক সমাধান দিতে সক্ষম।
অবশ্যই, এ মানের ফকীহ এক বা পাঁচ বছরে তৈরি হয় না। কিন্তু আমরা কিছু জাদীদ মাসআলার অনুশীলনের মাধ্যমে শিখবো কীভাবে উসূল প্রয়োগ করে নিত্যনতুন বিষয়ের সমাধান দেওয়া যায়। যেন একজন তালিবুল ইলম নিজস্ব মেহনত অব্যাহত রেখে ধীরে ধীরে তার মানযিলে মাকসূদের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
প্রস্তুতি: ফন্নীভাবে উসূল আয়ত্ত করা
তবে প্রথম ধরেই তো আমরা প্রয়োগে চলে যেতে পারবো না। তার আগে প্রয়োজন উসূলকে ফন্নী আঙ্গিকে আয়ত্ত করা। উক্ত উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমরা এক বছর মেয়াদি উসূলুল ফিকহের একটি তাদরীবের ব্যবস্থা করার নিয়ত করেছি। যাকে আমরা তিনটি পর্যায়ে বিন্যস্ত করবো ইনশাআল্লাহ।
• প্রাথমিক
• মাধ্যমিক
• উচ্চ
প্রতিটি পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিতাব, নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও সুনির্দিষ্ট মানহাজ রয়েছে। দীর্ঘতার ভয়ে তা উল্লেখ না করাটাই সমীচীন মনে করছি। আগ্রহীগণ সাক্ষাতে বিস্তারিত জেনে নিতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।
বিশেষত যারা হেদায়া পড়ার ইচ্ছা রাখেন তাদের জন্য হেদায়া শুরু করার আগে অন্তত এক বছর উসূল পড়ে নেওয়া অত্যন্ত উপকারী। আর যারা হেদায়া পড়ে ফেলেছেন তাদের জন্য ইফতা শুরু করার আগে উসূল অধ্যয়ন অপরিহার্য।
শেষ কথা: প্রয়োজন একাগ্র মন ও পরিশ্রমী দেহ
এ পথে চলার জন্য প্রয়োজন প্রচণ্ড আগ্রহ, অবিরাম পরিশ্রম, আদব ও ইখলাস যাদের অন্তরে সত্যিই কোরআন-হাদীস গভীরভাবে বুঝার তৃষ্ণা আছে, এক আয়াত থেকে শত শত মাসআলা আহরণের স্বপ্ন আছে, ফুকাহায়ে কেরামের একাধিক মতের মাঝে প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেওয়ার হিম্মত আছে এ দাওয়াত তাদের জন্য।
যদি উসূল পড়ার প্রয়োজনীয়তা এখনো পুরোপুরি অনুভূত না-ও হয়, তবুও অনুরোধ করবো একটি বছর দিন। হয়ত শুরুতে সময় নষ্ট মনে হবে। কিন্তু ইনশাআল্লাহ, শুধু দৃষ্টিভঙ্গি নয় আসল দৃষ্টি উন্মুক্ত হবে।
যে মধু আস্বাদন করেনি, সে কীভাবে মধুর স্বাদ বুঝবে? আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ইখলাসের সাথে দ্বীনের গভীরে প্রবেশ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
বর্তমান মুহতামিমের মোবাইল নাম্বার :- ০১৩০৭৮২৮৯০২
তথ্য দানকারীর নাম :- মুহা. ফয়সাল বিন বেলাল
তথ্য দানকারীর মোবাইল :- ০১৩০৭৮২৮৯০২
তথ্য দানকারীর ইমেইল :-
