সারাদেশের মাদ্রাসাসমূহ (বিভাগ ভিত্তিক)

দক্ষিণকাছ হুসাইনিয়া মাদরাসা

অক্টোবর ০৪ ২০১৮, ০৩:২৯

নাম: দক্ষিণকাছ হুসাইনিয়া মাদরাসা

ইতিহাস ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
হযরত শাহজালাল র. এর অন্যতম সঙ্গী হযরত শাহপরাণ র. এর পদস্পর্শে ধণ্য সিলেট শহরের পূর্বাঞ্চলীয় উপকন্ঠে ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের তামাবিল সড়ক ও বাইপাস সড়কের মিলনকেন্দ্রে অবস্থিত অত্র এলাকার সর্বপ্রাচীন দ্বীনী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণকাছ হোসাইনিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা।
টিলা ও হাওড়ের প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে এক বিস্তীর্ণ জায়গা নিয়ে দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরামের চেষ্টা সাধনা এবং হৃদয়বান দ্বীন দরদী ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে এই মাদরাসা।
শায়খুল ইসলাম আল্লামা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রা. দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে শিক্ষা দীক্ষা গ্রহণ করে ১৯২৪ ঈসায়ী সনে সিলেটে এসে ইলমে ওয়াহী শিক্ষা দিয়ে আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে ইলমে নববী দ্বারা মুহ্যমান করেন। কুতবে আলমের ইলম ও প্রজ্ঞার সূধাপানকারী হযরত শাহপরান র. এর স্মৃতিধন্য খাদিমপাড়া ইউনিয়নের একা ক্ষণজন্মা পুরুষ হযরত মাওলানা কাসিম আলী র. স্বীয় এলাকায় একটি দ্বীনী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেন। প্রথমে তিনি মাম্বাউল উলূম মাদ্রাসা নামে একটি কওমী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদরাসাটি জহিরিয়া এম.ইউ উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়ে যাওয়ার তিনি বর্তমান দক্ষিণকাছ হুসাইনিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ অবধি যে সকল ওলামায়ে কেরাম,মুরব্বিয়ান ও দ্বীন দরদী ভাই-বোন মাদ্রাসার সাথে সম্পর্ক রেখে সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন, তাদের জন্য হায়াতে তায়িব্যা এবং ইহ ও পরকালীন কল্যাণ ও সুখ-শান্তি কামনা করছি। আর যারা পরপারে মহান প্রভূর সন্নিধ্যে চলে গেছেন তাঁদের জন্য জান্নাতুল ফিরদাউস কামনা করছি। আ-মীন।
মাদ্রাসা সংস্কার
বিগত ০৩/১২/২০০৬ ঈসারী মাদ্রাসা কমিটি ও এলাকাবাসী ঐতিহ্যবাহী এ মাদরাসা পরিচালনার গুরুদায়িত্ব আমার উপর অর্পণ করেন। দক্ষিণকাছ পরগণাবাসী তাদের প্রাণপ্রিয় এ প্রাতিষ্ঠানকে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার বগুমূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আমরা দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা শিক্ষাবিদগণের সাথে পরামর্শ করে মাদ্রাসা সার্বিক অবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে নতুন আঙ্গিকে সাঝানোর কাজে আত্মনিয়োগ করি।
বিগত ২০০৭ ঈসারী সনে সানাবিয়্যান ১ম বর্ষের সাথে আরও ২টি ক্লাস বর্ধিত করে সানাবিয়্যা ৩য় বর্ষ পর্যন্ত খোলা হয়। বোর্ডের মেধাতালিকাভূক্ত একদল চৌকস শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছাত্রদের প্রচুর সমাগম হয়। শিক্ষকদের ২৪ ঘন্টা আপ্রাণ প্রচেষ্ঠার ফলে মাদ্রাসার ছাত্রদের আমল-আখলাক ও পড়াশুনার যথেষ্ঠ পরিবর্তন আসে।
বিগত ২০০৮ সনের আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলনে শায়খুল হাদীস আল্লামা মাহমূদূল হাসান রায়গড়ী (দা. বা) ফযীলত ১ম বর্ষ (টাইটেল এর ২ ক্লাস বাকী) পর্যন্ত খোলার প্রস্তাব করেন। সাথে সাথে হাজার হাজার জনতা তার কথার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানায়। এখানেই মাদ্রাসার উন্নতির ধারা বজায় রাখার জন্য আরও একটি জামাত খোলার প্রস্তাব পেশ করেন।
উপস্থিত জনতা মাদ্রাসা দাওরায়ে হাদীস খোলার জোর দাবি জানান এবং সাথে সাথে কয়েক সেট কিতাব দানের ওয়াদাও করেন। অনেকে কিতাব ক্রয় করে মাদরাসায় পাঠিয়েও দেন। এই বিস্তৃত ৪০ কিলোমিটার এলাকায় কোনো দাওরায়ে হাদীস মাদ্রাসা না থাকায় এলাকাবাসী এই প্রতিষ্ঠানকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার অদম্য বাসনা বুকে নিয়ে প্রাণপণ প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই আমরাও এলাকাবাসীর আশা পূর্ণ করার জন্য সবার কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছিলাম। অন্যদিকে মাদ্রাসার লেখা-পড়ার মান চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছাত্রদের প্রচুর সমাগম হয়। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিল্ডিং না থাকায় ছাত্রদেরকে ভর্তি করা দুরুহ ব্যাপার হতে যাচ্ছে। তবুও আল্লাহর অপার রহমতের উপর ভরসা করে দাওরা হাদীসের ক্লাস চালু করার প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রাখি।
আল্লাহর মেহেরবাণীতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের দীর্ঘ দিনের আশা ও দু’আ মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। তাই হযরত শায়খে গহরপুরী রা.-এর মাদ্রাসায় প্রায় ১৫ বছর এবং দরগাহে হযরত শাহ্ জালাল র.-এর মাদ্রাসার ৩০ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সুযোগ্য মুহাদ্দিস মাওলানা শায়খ আব্দুল বাসিত বরকতপুরী হুজুর
শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালনে সদয় সম্মতি প্রদান করেন। সুতরাং আরও কিছু যোগ্য ও সুদক্ষ দেশ-বিদেশ থেকে সনদপ্রাপ্ত সুযোগ্য মুহাদ্দিসগণের মাধ্যমে দাওরায়ে হাদীসের র্দস চালু করা হয়েছে। আমরা এবার খুব ভালোভাবে পরীক্ষা নিরিক্ষা ও যাচাই বাছাই করে মেধাবী ছাত্রদের দ্বারা দাওরায়ে হাদীসের ক্লাসের শুভ সূচনা করেছি।
শায়খুল আরব ওয়াল আজম হযরতুল আল্লামা সায়্যিদ হুসাইন আহমাদ মাদানী র. এর সুযোগ্য জামাতা জনাব হযরত মাওলানা কারী উসমান সাহেব মুহাদ্দিস, দারুল উলুম দেওবন্দের জবান মুবারকের দ্বারা দরসে বুখারীর শুভ উদ্ভোধন করা হয়।
মহান আল্লাহ পাকের নিকট আকুল মিনতি তিনি যেন আমাদেরকে এবং আমাদের প্রিয় ছাত্র ভাইদেরকে কবুল করেন এবং জাহিরী ও বাতিনী তারাক্কী দান করেন।
আ-মীন।
মহান আল্লাহ তার দ্বীনের হিফাজতের মাধ্যম হিসাবে শিক্ষার ধারাবাহিকতাকে যুগ যুগ ধরে প্রবাহমান রেখেছেন। এর দ্বারা জাতির ধর্ম তাহযীব ও তামাদ্দুনের সুস্থ ধারায় নিয়ে যাওয়া যায়। তাই মহানবী স. বলেন
……………… অর্থাৎ, আমি শিক্ষক হিসাবে প্রেরিত হয়েছি।
তাঁর শিক্ষার বদৌলতে যে যুুগের কু-সংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ পেয়েছিল সঠিক পথের দিশা। গ্রাম্য বেদুইনরা হয়েছিলেন সোনার মানুষ। মহানবীর সঙ্গী-সাথীরা প্রত্যেকেই সত্যের মাপকাঠি ছিলেন। তাদের জন্য মহান আল্লাহ বেহেশতের সু-সুংবাদ দান করেছেন। সে শিক্ষার ধারাবাহিকতায় জনগনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণকাছ মাদ্রাসা। এখানে মুসলমান সন্তানদের যুগ সমস্যার সমাধানকারী ও যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আরবী, বাংলা, ইংরেজী, ভূগোল, বিজ্ঞান, ইতিহাস কম্পিউটার প্রযুক্তি প্রবৃত্তি বিষয়ে পারদর্শী হিসেবে গড়ে তোলার সাথে সাথে সহীহ শুদ্ধভাবে কোরআন-হাদীসের সঠিক জ্ঞান দেয়ার ব্যবস্থা নেয়ার মত একটি খাঁটি ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষার সমন্নয়কারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আশাকরি অতি শীঘ্রই আমাতের এ প্রতিষ্ঠান থেকে আলীম, মুফতী ও মুহাদ্দীসের বের করে দিতে পারবে ইন্শাআল্লাহ।
আমরা আমাদের ও মাদ্রাসাকে একটি যুগোপযুগী ও আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এর কার্যক্রমকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করি। নি¤েœ তার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরছি।
মাদ্রাসার বর্তমান বিভাগ সমূহ ঃ
১. কিতাব বিভাগ
২. নাযারা বিভাগ
৩. হিফয বিভাগ
৪. কিন্ডার গার্টেন বিভাগ
৫. দাওয়াত ও তাবলীগ বিভাগ
৬. ফতোয়া ও ফারায়িয বিভাগ
৭. শিক্ষক-প্রশিক্ষণ বিভাগ
৮. কুতুব খানা (লাইব্রেরী)
৯. মাসিক ইস্লাহী মাহফিল
১০. ছাত্র-প্রশিক্ষণ বিভাগ
১১. আবাসিক ছাত্রাবাস
১২. লিল্লাগ বোর্ডিং
১. কিতাব বিভাগে মোট পাঁচটি স্তর রয়েছে ঃ
(ক) ইবতেদায়ী (প্রাইমারী)
(খ) মুতাওয়াস্সিতা (মাধ্যমিক)
(গ) সানাবিয়া (উচ্চ মাধ্যমিক)
(ঘ) ফযীলত
(ঙ) তাক্মীল বা দাওরায়ে হাদীস (এম.এ সমমান)
২. নাযারা বিভাগ ঃ
এ বিভাগে দক্ষ ও বিজ্ঞ ক্বারী সাহেবের মাধ্যমে ছাত্রদেরকে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতকে সহী-শুদ্ধ করে হিফয বিভাগে পড়ার উপযোগী করে দেয়া হয়।
৩. হিফয বিভাগ ঃ
এ বিভাগে সুদক্ষ হাফিযে কোরআনের মাধ্যমে হিফয পড়ার ইচ্ছুক ছাত্রদেরকে স্বল্প সময়ে হাফিযে কোরআন বানানো হয়। সাথে সাথে তারদেরকে কিছু বাংলা, ইংরেজী, উর্দূ ও ইসলামী মাসাইল ইত্যাদি শিক্ষা দেয়া হয়। ছাত্রদের উৎসাহ উদ্যিপনার উদ্যোগে বিভিন্ন সময় কিরাআত, হামদ,না‘ত ইত্যাদির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।
৪. কিন্ডার গার্টেন বিভাগ ঃ
এ বিভাগে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিচক্ষণ ও দক্ষ শিক্ষকমন্ডলী দ্বারা পাঁচটি ক্লাস পরিচালনা করা হয়।
ক. প্লে
খ. নার্সারী
গ. স্ট্যান্ডার্ড ওয়ান
ঘ. স্ট্যান্ডার্ড টু
ঙ. স্ট্যান্ডার্ড থ্রী
৫. দাওয়াত ও তাবলীগ বিভাগ ঃ
প্রতি বৃহস্পতিবার রুটিন মাফিক এক জামাত ছাত্রের মাধ্যমে দ্বীনের দাওয়াতের কাজ আঞ্জাম দেয়া হয়। এ জামাতের একজন জিম্মাদার থাকেন, জিম্মাদারের দায়িত্ব্ েএ জামাত মুরুব্বীদের পরামর্শ অনুযায়ী ২৪ ঘন্টা দাওয়াতী কাজ করে থাকে।
৬. ফতোয়া ও ফারায়িয বিভাগ ঃ
দৈনন্দিন জীবনে মানুষ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়, লোকজন এসকল সমস্যার সমাধানে ইসলামী শরীয়তের সঠিক সিদ্ধান্ত জানতে ছুটে আসে দক্ষিণকাছ হোসাইনিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায়। এ জন্য অত্র মাদরাসায় দেশ-বিদেশ থেকে সনদপ্রাপ্ত একদল মুফতীদের নিয়ে একটি দারুল ইফতা গঠন করা হয়। এখান থেকে বিভিন্ন বিষয়ের উপর ফতওয়া ও ফারায়িয প্রদান করা হয়ে থাকে। উল্লেখ্য, ২০১১ সনে সুপ্রীমকোর্টও এ ধরনের সনদপত্র মুফতীদের ফতওয়া প্রদাসে রাষ্ট্রীয়ভাবে অধিকার প্রদান করে।
৭. শিক্ষক-প্রশিক্ষণ বিভাগ ঃ
শিক্ষা-শিক্ষকের মানোন্নয়ের লক্ষ্যে প্রশিক্ষনের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের দ্বারা শিক্ষকের শিক্ষার মান উন্নত হয় এ কথা সর্বজনস্বীকৃত। ফলে এ মাদ্রাসায় বিভিন্ন বিষয়ের দক্ষ শিক্ষকমহোদয়ের ন্যায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রশিক্ষণ পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়। শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ মাদ্রাসার উদ্যোগে শিক্ষক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা রয়েছে। বৎসরের বিভিন্ন সময় মাদ্রাসার তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষক-প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয় এতে দূর-দূরান্তের এলাকা থেকে প্রচূর পরিমাণ শিক্ষক মহোদয় প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য অংশগ্রহণ করে থাকেন। তারা প্রশিক্ষনে অংশগ্রহণ করে তাদের শিক্ষার মান একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
৮. কুতুব খানা (লাইব্রেরী) ঃ
কুতুব খানা (লাইব্রেরী) ঃ শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কুতুবখানা বা লাইব্রেরীর কথা অনস্বীকার্য। যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কুতুবখানা বা লাইব্রেরীর গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষতঃ আমাদের এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদেরকে পাঠ দানের পূর্বে শিক্ষনগণ সিলেবাসভূক্ত কিতাবাদি, ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও সহকারী পুস্তিকাদি গভীর মনোনিবেশ সহকারে অধ্যয়ন করে থাকেন। অপরদিকে ছাত্রদেরকে পাঠ্যপুস্তক শিক্ষা বৎসরের সমাপ্তি পর্যন্ত সময়ের জন্য এ মাদ্রাসার একজন দায়িত্বশীলের মাধ্যমে একটি কুতুবখানায় কিতাবাদীর খুবই অপ্রতুল। তাই মহানুভাব ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।
৯. মাসিক ইস্লাহী মাহফিল ঃ
কওমী মাদ্রাসায় ইলম অর্জনের মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মশুদ্ধি। এ উদ্দেশ্যকে লক্ষ রেখে পীর-বুজুর্গগন সর্বদা ছাত্রদেরকে এ বিষয়ে উৎসাহ দিয়ে থাকেন এবং ধারাবাহিক লেখা-পড়া শেষ হওয়ার পর পরই কোন নেক বুজুর্গের হাতে বায়আত গ্রহণ ও কুরআন-হাদীসের আলোকে তাঁর দেয়া মাসনূন দু’আ, তাসবীহ ও তারবিয়াতের ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্ব দেয়া হয়। এ লক্ষকে সামনে রেখে জনাব মুহতামিম সাহেবের বাসায় বশিরিয়া হোসাইনিয়া খানকায় প্রতি ইংরেজী মাসের শেষ জুমাবার হযরত মাদানী র. এর খলীফা মুফতী নোমান সাহেব আগমন করেন এবং রাতব্যাপি ইসলাহী-তারবিয়াতী প্রগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে বিভিন্ন এলাকার উলামায়ে কেরাম, ফুযালা, তালাবা হাজির হয়ে নিজের আত্মশুদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন।
১০. ছাত্র-প্রশিক্ষণ বিভাগ
ছাত্রদের সিলেবাসভূক্ত কিতাবাদি শিক্ষাদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ও অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা পরিস্ফূটনের লক্ষ্যে ছাত্র প্রশিক্ষনের নিমিত্তে নি¤েœাক্ত কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
ক. ছাত্র পাঠাগার ঃ সিলেবাসভুক্ত পঠিতব্য বিষয়ের জ্ঞানার্জনের সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন মুখী জ্ঞান-বিজ্ঞানের পুস্তক ও পত্র-পত্রিকা সমৃদ্ধ একটি দারুল মুতালা’আ বা ছাত্র পাঠাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষানুরাগী ও ছাত্রবন্ধু মহানুভব ব্যক্তিদের আর্থিক আনুকুল্য লাভে সমর্থ হলে এ প্রোগ্রাম আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।
খ. মাসিক দেয়ালিকা ঃ বর্তমান লিখনীর যুগে বলিষ্ট লিখনীর মাধ্যমে ইস্লামের আদর্শ ও শিক্ষা প্রচারের যোগ্যতা সৃষ্টির জন্য মাদ্রাসার শিক্ষার্থীগণ বাংলা ও ধর্মীয় আন্তর্জাতিক ভাষা আরবীতে লিখনী চর্চা করে থাকে এবং চর্চাকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলা দেয়ালিকা প্রকাশ হয়ে থাকে। আরবী দেয়ালিকা প্রকাশের উদ্যোগ রয়েছে।
গ. সাহিত্য মজলিস ঃ উক্ত লিখনী চর্চার নিয়মানীতি, রচনাশৈলী, লেখা ও আবৃত্তির কলাকৌশল ও সাহিত্যের গতি-প্রকৃতি সম্বন্ধে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য যোগ্য সাহিত্যিক উস্তাদের তত্ত্বাবধানে সাপ্তাহিক বক্তৃতা মজলিসের প্রোগ্রামও চালু করা হয়েছে।

Spread the love