সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

শায়খুল হাদীস রিয়াছত আলী (চৌঘরী) রহ.

July 19 2026, 06:02

নাম :- মাওলানা রিয়াছত আলী (চৌঘরী) রহ.

জন্ম তারিখ / জন্মস্থান :- শায়খে চৌঘরী (রহ.) সিলেট জেলার ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ থানার চৌঘরী গ্রামস্থ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৩০৬ বাংলা মোতাবেক ১৯০০ ইং ১৩২০ হিজরীতে জন্ম গ্রহন করেন ৷

শৈশব কাল :- তাঁর পিতা হলেন মরহুম মামন হাজ্বী, মাতা মোছাম্মত রহিমা বেগম, যিনি অত্যন্ত দ্বীনদার পরহেযগার ছিলেন ৷ শৈশবেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন , ফলে তাঁর বড় ভাই জনাব মরহুম সাজীদ আলীর তত্ত্বাবধানে লালিত পালিত হন।উল্লেখ্য বৃটিশের সাথে সংগঠিত ঐতিহাসিক\” লাতুর যুদ্ধের অন্যতম সিপাহসালার মোহা. আব্দুল্লাহ বাজিয়া ওরফে লাতু মোল্লা ছিলেন তাঁর পূর্বপূরুষ।

শিক্ষা জীবন :- শায়খে চৌঘরী (রহ.) নিজ গ্রামের হাকিম ডাঃ আব্দুল আজীজ সাহেব ও হাজীপুর নিবাসী ক্বারী আকমল আলী সাহেবদ্বয়ের নিকট প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর ফুলবাড়ী আজিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। এর পর হাদিছের সর্ব উচ্চ জ্ঞান লাভের জন্য দারুল উলুম দেওবন্দ ভর্তি হন ৷ ১৩৪৪ বাংলা সালে দারুল হাদীসের পরীক্ষা শেষ করে বাড়ীতে ফিরে আসেন ৷

চৌঘরী (রহঃ)র সম্মানীত উস্তাদ মন্ডলীঃ-
শায়খুল হাদীস আল্লামা আনওয়ার শাহ্ কাম্মিরী (রহ.), আল্লামা সাব্বির আহমদ উসমানী (রহ.), আল্লামা রাছুল খাঁ (রহঃ), আল্লামা আছগর হোসাইন (রহ.), আল্লামা এজাজ আলী (রহ.), মুফতি আজিজুর রহমান, আল্লামা ইব্রাহিম এবং হাকিম ডাঃ আব্দুল আজিজ, জনাব ক্বারী আকমল আলী(রাহি:)প্রমুখ।

শায়খে চৌঘরী (রহ.)র কর্ম জীবনঃ-
হুজুরের কর্ম জীবন শুরু হয় ইলমে দ্বীনের খেদমতের মধ্য দিয়ে।সর্বপ্রথম ফুলবাড়ী আজিরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন সেখানে কিছুদিন শিক্ষকতা শেষে কানাইঘাট ঝিংঘাবাড়ী মাদ্রাসাতে শিক্ষকতা শুরু করেন।ঝিংগাবাড়ী মাদ্রাসাতে বছর খানেক ইলমে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দেন এবং কানাইঘাট থানার তালবাড়ী কুনাগ্রাম নিবাসী জনাব হাজ্বী আব্দুল বারী (রহ.) এর কাছে বয়াত গ্রহন করেন ৷ স্বীয় মুরশিদের কাছে আধ্যাত্মিক সাধনার পর সেখান থেকে ভারতের হাইলাকান্দি এলাকার বড়বন্দ মাদ্রাসাতে ইলমে দ্বীনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করেন ৷ হাইলাকান্দিতে প্রায় তিন বৎসর অত্যান্ত সুনামের সহিত ইলমে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দেন ৷ সেখানে শায়খে চৌঘরী (রহ.) এর ইলমী গভীরতা ও ব্যাপকতা ফুটে উঠে

কর্ম জীবন :- রানাপিং মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা-
উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীনতম দ্বীনি বিদ্যাপীট সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার রানাপিং পরগনায় ঢাকাউত্তর রানাপিং আরাবিয়া হুছাইনিয়া মাদ্রাসা ১৯৩০ ইং সালে প্রতিষ্টা করেন। রানাপিং মাদ্রাসা প্রতিষ্টার পর সর্ব প্রথম দারুল হাদীসের ক্লাস উদ্বোধন করা হয় ১৩৬৪ হিজরী সনে ৷ উল্লেখ্য তাৎকালীন সময়ে সিলেটের কোথাও দারুল হাদীস চালু ছিলনা ৷ বৃটিশের শোষন এর ফলে সিলেটের কোথাও দারুল হাদীস চালু করা সম্ভব হতো না। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল রানাপিং মাদ্রাসা।

মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্টাঃ-
তার শেষ জিন্দেগীতে যখন তিনি দেখলেন আধুনিক শিক্ষার নামে আমাদের নারী সমাজকে চরম বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহুর্তে এ বিষয় নিয়ে শুরু হয় তার চিন্তা ও গবেষনা নারীদের মধ্যে ইসলামী শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে এরই প্রেক্ষিতে ১৯৮২ ইং তে নিজ বাড়ীর পার্শে নিজস্ব জমিতে সিলেট জেলার প্রথম মহিলা টাইটেল মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করেন ৷ নাম হল রিয়াছতুল উলুম মাদ্রাসাতুল বানাত , রানাপিং৷ উক্ত মাদ্রাসা প্রতিষ্টার পর থেকে সিলেটসহ সারাদেশে বেশ কিছু মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্টার মাধ্যমে মেয়েদের দ্বীনি শিক্ষার কাজ চলছে ৷ নিঃসন্দেহে ইহাও হয়রত শায়খে চৌঘরী (রহ.) এর গবেষনা মূলক চিন্তার একটি বাস্তব নমুনা ৷ উল্লেখযোগ্য সম্মানিত ছাত্রবৃন্দঃ-
শায়খুল হাদীস মাওলানা তাহির আলী তৈপুরী হুজুর (রহ.), শায়খুল হাদীস হোসাইন আহমদ বারকোটি (রহ:), শায়খুল হাদীস আশরাফ আলী বিশ্বনাথী (রহ), হযরত মাওঃ উবায়দুল হক সাবেক এম,পি, (রহ.) হযরত মাওঃ মুস্তাকিম আলী (রহ.), শায়খুল হাদীস হেলাল উদ্দিন আহমদ (দা: বা:), হাফেজ মাওঃ আনওয়ার হোসাইন (রহ.), হযরত মাওঃ খলিলুর রহমান রাজনগরী (রহ) হযরত মাওঃ জাওয়াদ সাহেব পারকুলী (রহ.), হযরত মাওলানা মাহমুদ আলী সাহেব ঘনশ্যাম (রহ.), মুফতি জামিল আহমদ সাহেব বালাগঞ্জি (রহ.), হাফেজ মাওলানা ওহিদুর রহমান, হাফেজ মাওলানা তায়িদুর রহমান সহ আর অনেক প্রমুখ উলামায়ে কেরাম হুজুরের সম্মানীত ছাত্র৷

অবদান :- রাজনীতিঃ-
শায়খে চৌঘরী (রহ.) ১৯৬৪ ইং পূর্বপাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি, শায়খে কৌড়িয়া (রহ.) সহ সভাপতি ও মাওঃ আশরাফ আলী বিশ্বনাথী (রহ.) কে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ব পাকিস্তান জমিয়তের প্রথম কমিটি গঠন করা হয় ৷ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পূর্বপাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি হলেন আল্লামা রিয়াছত আলী শায়খে চৌঘরী (রহ.) ১৯৮১ সালে ঢাকায় শায়েস্তা খান হলে উলামা মাশায়েখের এক সমাবেশ অনুষ্টিত হয়। উক্ত সমাবেশে জমিয়তের বিলুপ্তিক্রমে খেলাফত আন্দোলনের আমির হিসাবে হযরত আল্লামা হাফেজ্জি হুজুর (রহ.) এর বায়আত নেন। কিন্তু মাত্র কিছু দিন যেতে না যেতেই ইরান ইরাক সফরকে কেন্দ্র করে মতানৈক্য সৃষ্টি হয় এবং পুনরায় জমিয়ত নেতৃবৃন্দ জমিয়ত গঠন করেন ৷ ঐ সময় থেকে শায়খুল হাদীস আল্লামা রিয়াছত আলী (রহ.) রাজনৈতিক অংঙ্গনে নিশ্চুপ থাকেন জমিয়ত নেতৃবৃন্দ বার বার তাঁর নিকট আসলে তিনি উত্তর দিতেন\” মুফতি মাহমুদ (রহ.) এবং গোলাম গৌছ হাজারভী (রহ.) এর আমলের জমিয়ত যদি হয়, তাহলে জমিয়তে কাজ করব বর্তমান জমিয়তের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই বা আমি কোন কাজ করবনা। শায়খে চৌঘরী (রহ.) রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি ছিলেন ৷ তিনি রাজনীতি করতেন দ্বীনের কাজ মনে করে এবং মানুষের জন্য ৷ তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, বৃটিশ বিরুধী স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ জনতার প্রতিটি ন্যায্য আন্দোলনে মরনপণ লড়াই করে গেছেন ৷ সেজন্য তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে।

বৃটিশ বিরোধি আন্দোনঃ-
শায়খে চৌঘরী (রহ.) বঙ্গপ্রদেশে বৃটিশ বিরুধী আন্দোলনে অগ্রনায়ক ছিলেন।শায়খে চৌঘরী (রহ.)র নেতৃত্বে সিলেট কুদরত উল্লাহ মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের হয় তখনকার বৃটিশ সরকারের নির্দেশ ছিল যে, সরকার বিরোধি কোন মিছিল চলতে পারে না ৷ যখন চৌঘরী (রহ.) মিছিল নিয়ে বের হন তখন উনার হাতে স্বাধীনতার পতাকা ছিল তখন চৌঘরী (রহ.)র সাথে ইংরেজ বাহিনীর ধস্তাধস্তি হলে এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান মাটিতে পড়ে গেলেও ইংরেজরা তাঁর হাত থেকে স্বাধিনতার পতাকা ছিনিয়ে নিতে পারেনি তিনি মাটিতে পড়ে উপুড় হয়ে পতাকা কে বুকের সাথে আকড়ে ধরেন এমতাবস্তায় তাকে গ্রেফতার করাহয় ৷ বৃটিশ বিরোধি আন্দোলন করতে গিয়ে বৃটিশের অন্ধকার কারাগারে নির্যাতিত হয়েছেন , এবং দীর্ঘ দিন বৃটিশের অন্ধকার কারাগারে বন্ধী ছিলেন ৷ তিনি তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্দোলনের নানা মাত্রিক চলার পথে জীবন সংগ্রামের স্বর্ণোজ্জল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছিলেন।১৮৫৭ সালের সিপাহী জনতার মহান বিপ্লবেও তার অগ্রণি ভূমিকা ছিল ৷ যে সকল জিন্দা দিল মরদে মুজাহীদদের নেতৃত্বে বৃটিশ বিরুধী আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হাজি এমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কি (রহ.) কাসেম নানুতবী (রহ.),রশিদ আহমদ গাংগুহী (রহ.),হাফিজ আমিন উদ্দিন (রহ.) প্রমূখ উলামায়ে কেরাম ৷ মূলতঃ তাদেরই সফল নেতৃত্ব এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল ছিল এই উপমহাদেশের স্বাধীনতা।

ইসলামী আন্দোলনঃ-
তদানীন্তন পাকিস্তান আইয়ূব খাঁন কতৃক মুসলিম পারিবারিক আইন পাশের বিরুদ্ধে সিলেটে সর্বস্তরের উলামা— মাশায়েখগন প্রতিবাদ মূখোর হয়ে রেজিষ্টারী ময়দানে এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন ৷ জেলাপ্রশাসক রেজিষ্টারী ময়দানে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষনা করে ১৪৪ ধারা জারী করে এবং রেজিষ্টারী ময়দানের প্রধান গেইটে তালাবদ্ধ করে রাখে ৷ এদিকে প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে সিলেট শহর লোকে লোকারণ্য কিন্তু কেহ রেজিষ্টারী ময়দানে ঢুকার সাহস পাচ্ছেন না এমতাবস্তায় শায়খে চৌঘরী শত শত আলিম উলামা কে সাথে নিয়ে যখন হাজির হলেন সিলেটে ৷ তখন মর্দে মুজাহিদ শায়খে কাতিয়া (রহ.) জানালেন ১৪৪ ধারা জারী এবং রেজিষ্টারী ময়দান তালাবদ্ধ হুজুর বললেন চল শায়খে কাতিয়া কে সাথে নিয়ে রেজিষ্টারী ময়দানের গেইটের তালা ভেঙ্গে হাজার হাজার তৌহিদী জনতাকে নিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইন পাশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ৷
১৯৭১ ইং দেশ যখন স্বাধিনতা সংগ্রাম চুড়ান্ত পর্যায়ে তখন শায়খে চৌঘরী (রহ.) নিজ এলাকায় জনসাধারনের জান-মাল ইজ্জত আবরু হিন্দু মুসলমান সকল শ্রেনির মানুষের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অত্যান্ত তৎপর ছিলেন ৷ শোষিত, বঞ্চিত, নিঃস্ব, অবহেলিত ও নিপিড়িত মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছেন ৷ তাদের মুখে হাসি ফুটানুর জন্য জোর লড়াই করেছেন শান্তি প্রতিষ্টার জন্য আন্দোলনের পর আন্দোলন করেছেন ৷সরদার আলাউদ্দিন, ডঃ ফজলু, দাউদ হায়দার সহ অনেকেই ইসলামের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুল্লে শায়খে চৌঘরী (রহ.) তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোদে গর্জে উঠেছেন সিলেটে এবং গোলাপগঞ্জে প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছিলেন ৷ ১৯৭৭ ইং সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত স্বাধীন বাংলাদেশে কুখ্যাত কবি দাউদ হায়দার\” কালো সূর্য্যের কাল জুছনার কালো বন্যায়\” শিরোনামে নবীজীকে কটাক্ষ করে একটি নিকৃষ্ট কবিতা লিখেছিল ৷ কবিতাটি প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে শায়খে চৌঘরী (রহ.) এর আরাম হারাম হয়ে যায় ৷ তিনি গোলাপগঞ্জ এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন ৷ বিশাল এ সমাবেশে সভাপতির ভাষণে তিনি প্রিয় নবী (সঃ) এর মান-মর্যাদার কথা বর্ণনা করে দাউদ হায়দারের ধৃষ্টতার কথা উল্লেখ করে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেন নি ৷ তিনি অঙ্গান হয়ে মনঞ্চেই লুটিয়ে পড়েন ৷ তাঁর এ অবস্তা দেখে উপস্তিত তৌহিদী জনতার অন্তরে জিহাদের আগুন জ্বলে উঠে অবশেষে কুখ্যাত কবি দাউদ হায়দার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।

সাধারণ জীবনঃ-
শায়খে চৌঘরী(রহ.) দুনিয়াবী কোন লোভ লালসা ছিলনা ৷ হুজুরের বাড়ী ছিল স্বাভাবিক একটা টিনসেটের ঘর ৷ একদিন হুজুরের কিছু ভক্তরা বাড়ী নির্মাণের জন্য রড, সিমেন্ট, বালু পাথর মাল সামগ্রী বাড়ীতে নিয়ে আসেন একটা পাকা ঘর করে দেয়ার জন্য ৷ হুজুরকে বললেন জায়গা দেখিয়ে দিতে ৷ হুজুর বললেন – আমার বাড়ী তো এটা নয় আমার বাড়ী ঢাকাউত্তর রানাপিং আরবিয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসা দালান-কোঠা তৈরি করে দিতে চাইলে আমার আসল বাড়িতেই করেদেন ৷ তখন ভক্তরা সব মাল সামগ্রী মাদ্রাসায় দিয়ে দেন ৷
হুজুরের এক মুরিদ সিলেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব সোলেমান খাঁন সাহেবর ইচ্ছা ছিল হুজুরের বাড়িতে মেহমান দের জন্য প্রাসাদ নির্মাণ করবে ৷ সকলেরই অবশ্য জানা আছে এই প্রাসাদ রানাপিং মাদ্রাসায় হয়েছে ৷হুজুর নিজ বাড়ির জন্য গ্রহন করেন নাই ৷হুজুর যতদিন বেচেঁ ছিলেন ততদিন তাঁর বাড়ীতে কোন দালান বা প্রাসাদ ছিলনা আজ বাড়ীতে যাই হয়েছে হুজুরের ইন্তেকালের পর ৷মাদ্রাসা পরিচালনা করতে গিয়ে সঠিক ভাবে নিজের পরিবার কে সময়দিতে পারেন নি মাদ্রাসাকেই নিজের পরিবার ভাবতেন ছাত্রদেরকে নিজের সন্তান মনে করতেন, এমন কি জায়গা-জমি-ধন-সম্পদ সব কিছু বির্সরজন দিয়েছেন সেই রানাপিং মাদ্রাসা ও রানাপিং মহিলা মাদ্রাসার জন্য ৷

মৃত্যু তারিখ :- ১৯৯০ ইং ২৪ শে মে, রোজ শুক্রবার দিবাগত রাত্রে ৩.২০ মিনিটের সময় নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে মাওলায়ে হাকিকীর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে দুনিয়া ছেড়ে হাজার হাজার ছাত্র মুরিদান ভক্তদের সুখের সাগরে ভাসিয়ে ইহকাল ত্যাগ করে চলে যান আল্লাহর সান্নিধ্যে ইল্লালিল্লাহি……………রাজিউন \” ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺇﻏﻔﺮﻩ ﻭﺇﺟﻌﻞ ﻗﺒﺮﻩ ﺭﻭﺿﺔ ﻣﻦ ﺭﻳﺎﺽ ﺍﻟﺠﻨﺔ ، নামাজে জানাযাঃ- পরদিন বাদ আছর রানাপিং মাদ্রাসা মাঠে হাজার হাজার ভক্ত শাগরীদ মুরীদান উপমহাদেশের অসংখ্য মুফাচ্ছির শায়খুল হাদীস সহ অসংখ্য মানুষ হাজির ছিলেন হুজুরে জানাযায় ৷ সুযুগ্য ছাহেব জাদা মাওলানা ঈসমাইল সাহেব (রহ)র ইমামতিতে জানাযার নামায অনুষ্টিত হয় ,জানাযা শেষে হুজুর কে দাফন করা হয় হুজুরের পারিবারিক কবরস্থানে ৷

মোবাইল :-

তথ্য দানকারীর নাম :- ইশমাম আহমদ

তথ্য দানকারীর মোবাইল :- +৮৮০১৩২৯১৫৬৬৩০

Spread the love