সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

মাওলানা রুহুল আমিন (খাঁন সাহেব) রহ.

May 30 2021, 03:45


Manual7 Ad Code

নাম :- মাওলানা রুহুল আমিন (খাঁন সাহেব) রহ.

জন্ম / জন্মস্থান :- বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী, আত্মপ্রচার বিমুখ এই নিভৃতচারী মণীষী ১৯৫১ ঈসায়ী সালের মার্চ মাসের পহেলা তারিখ বরিশাল জেলায় অন্তর্গত বাকেরগঞ্জ থানাধীন পশ্চিম চরামদ্দী নামক গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম মৌলভী হাতেম আলী খাঁন।

Manual4 Ad Code

শৈশব কাল :- তিনি নিজগ্রামেই তার শৈশবকাল পার করেন। জনসমাগম মুক্ত এলাকায় নিজের শৈশবকাল গড়ে ওঠে।গ্রাম্য পরিবেশে থেকেও চিন্তার ফলক নিস্তেজ হতে দেয়নি। শৈশবথেকেই সামাজিকতা এবং মিশুক হয়ে প্রতিবেশীদের সাথে মিশতেন।এবং পিতার থেকে পাওয়া দ্বীনি শিক্ষা ছড়িয়ে দিতেন মানব সমাজে। তবে তাদের সময়ে ছিলো একটি গন্ডগোলের মুহুর্ত,,
ভাষা আন্দোলন সহ বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক রাস্ট্রিয় মানবিক দূর্বিষহ যেন লেগেই ছিলো। সেই পরিস্থিতি সামনে রেখে শৈশবের অনেক মুহুর্ত ছিলো ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে। এমনকি তার কিশোর বয়সে সে স্ব শরিরে বাংলাদেশ স্বাধিনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।সেজন্য পরিবার থেকে নিখোজও হতে হয়েছে কয়েক মাস,সন্তান হারানো কান্না বিষাদে ভেঙ্গে পরেছিলেন বাবা মা। দীর্ঘ কয়েক মাস পরে গুম হয়ে থাকা তাকে জালিমের কবলে খোজ পাওয়া যায় বহু অনুনয়বিনয় করর পরে মুক্তি দেওয়া হয়।এভাবেই পার হয় এই মহামণীষির শৈশব কাল।

শিক্ষা জীবন :- বহুগুণের অধিকারী এই মহান ব্যাক্তিত্বের প্রাথমিক শিক্ষা স্বীয় পিতা মৌলভী হাতেম আলী খাঁনের নিকট সম্পন্ন করেন।অতঃপর তিনি সিনিয়র ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় মাধ্যমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর তিনি চরমোনাই রশিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং ১৯৬৯ সালে এই মাদ্রাসা থেকেই তিনি কৃতিত্বের সাথে দাখিল পরিক্ষায় উত্তির্ন হন।তবে আলিয়া পড়া তার এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে।
আল্লাহ প্রেমিক এই মানুষটির মন ছুটে যায় আল্লাহ প্রদত্ত এবং রাসূল সাঃ নির্দেশিত দেওবন্দী সিলেবাসের দিকে। খাটি ইলমে নববী শিক্ষার প্রত্যাশী তরুণ রুহুল আমিন, তাই ঘর ছেরে বেরিয়ে পরেন। ছুটে যান বাংলার সর্ববৃহৎ দ্বীপজেলা ভোলায় সেখানে ভর্তি হন বরিশাল বিভাগের প্রাচীন মাদ্রাসা \’চর খলিফা\’ মাদ্রাসায়।
১৯৭০ সালে তিনি এই মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে প্রাণ খুলে ইলমে ওহীর ছবক গ্রহণ করতে থাকেন।
কিন্তু একটি বছর যেতে না যেতেই তার ইলমে হাসিলে ছন্দ পতন ঘটে।কারন ১৯৭০ সালের মুক্তিযুদ্ধে। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভোলা থেকে বরিশালে চলে আসেন। এসময়ে তিনি স্বশরীরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। সেই সালে দু বছর \’বরিশাল মাহমুদিয়া মাদ্রাসায়\’ অধ্যায়ন করেন। অতঃপর উচ্চশিক্ষা অর্জনের নিমিত্তে এই ইলম পিপাসু তরুণ আবারো বরিশাল ত্যাগ করেন। এবার ছুটে যান বার আওলিয়ার পুন্যভূমি খ্যাত চট্টগ্রামে।সেখানে তিনি প্রথমে হাটহাজারী থানা থেকে প্রায় দু তিন কিলোমিটার উত্তরে \’চাড়িয়া\’ মাদ্রাসায় ভর্তি হন।এরপর সেখান থেকে ঐতিহ্যবাহী \’মেখল মাদ্রাসায়\’ চলে যান। অতঃপর উপমহাদেশের অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান \’আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা \’থেকে তিনি হাদিস, ফিকহ,ও ফুনুনুনাতের উপর বিশেষ ডিগ্রী লাভ করেন।আর প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে এখানেই তার লেখাপড়া শেষ হয়।তবে শিক্ষা গ্রহণ বন্ধ হয়নি এই শিক্ষা অনুরাগীর।১৯৯৩ সালে মাওঃ রুহুল আমিন খান দারুল উলুম দেওবন্দে অতিথি শিক্ষার্থী হিসেবে কিছুকাল অধ্যায়ন করেন। এছারাও ১৯৯৮ সালে হজ্জের সফরে তিনি কয়েকমাস পুন্যভূমি মক্কা মদিনায় অবস্থান করেন। এসময় তিনি মদিনা শরিফের মসজিদে নববীর আসহাবুস সুফফা এবং মদীনা ইউনিভার্সিটির খন্ডকালিন ছাত্র হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

Manual6 Ad Code

কর্ম জীবন :- হজরত মাওলানা রুহুল আমিন খান সাহেবের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন শুরু হয় ছাত্র জীবন থেকেই। হাটহাজারী মাদ্রাসায় অধ্যায়ন কালেই তিনি মাদ্রাসার কেন্দ্রীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন এবং খণ্ডকালীন ইমামের দায়িত্ব পালন করেন। লেখাপড়া শেষে বরিশালে এসে তিনি ১৯৯৭ সালে কলেজ রোডস্থ ইসলামী বিদ্যাপীঠ জামেয়া ইসলামীয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন।এর পরের বছরেই অর্থাৎ ১৯৮০ সালে তিনি বরিশালের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মসজিদ \’জামে এবাদুল্লাহ মসজিদে\’ইমাম ও খতিব পদে যোগদান করেন। ১৯৮৭ সালের জুন মাসে ঐতিহ্যবাহী জামেয়া আরাবিয়া খাজা মঈন উদ্দিন (বাজার রোড) মাদ্রাসায় নাহু\’আদব\’ও হাদিস বিভাগে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন।
তার কর্ম জীবনের সিংহভাগই কাটে তার শেষোক্ত প্রতিষ্ঠান দুটোতে।
এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে তিনি অত্যান্ত সুনামের সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন।

Manual1 Ad Code

অবদান :- ইসলামের একনিষ্ঠ খাদেম মাওঃ রুহুল আমিন খাঁন রহ, প্রকৃতপক্ষেই একজন নেতৃত্ব গুন সম্পন্ন ব্যাক্তি ছিলেন। এজন্যে আল্লাহও তাকে সর্বদা নেতার আসনে বসিয়ে দ্বীনি খেদমতগুলো করার সূযোগ করে দিয়েছেন। যেমন- তিনি ছিলেন জাতীয় ইমাম সমিতি বরিশাল মহানগরের সাবেক সভাপতি;
বরিশাল কওমি মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বরিশাল শাখার সহ-সভাপতি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগরের সাবেক সভাপতি
এবং আমৃত্যু জেলা ও মহানগরের সম্মানিত উপদেষ্টা।

আধ্যাত্মিকতাঃ- মাওলানা রুহুল আমিন খাঁন রহ একদিকে যেমন ছিলেন ময়দানের বীর, অন্যদিকে জায়নামাযের পীর! তিনি ছিলেন উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক রাহবার শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ,এর সুযোগ্য খলিফা মুফতিয়ে আজম বাংলাদেশ আল্লামা আহমাদুল হক্ব সাহেব রহ, এর খলিফাদের মধ্যে অন্যতম খলিফা।
আধ্যাত্মিক চপতনা ছিলো তার জীবনের পরতে পরতে।সুন্নতে নববীর প্রতি ছিলো তার প্রগাড় ভালোবাসা।গভির রাতে আল্লাহর নামে তাসবীহ মালা যাপনা এবং তাহাজ্জুদের আমল ছিলো তার নিত্যদীনের সাধনা।তালীম তরবিয়াত ছিলো তার চিত্যের হৃদ্যতা! আজীবন এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গিয়ে তিনি স্বীয় পৈতৃকভূমি ওয়াকফ করে গড়ে তুলেন মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ,ও এতিমখানা। নিজ প্রতিষ্ঠিত খানকায় তিনি সাপ্তাহিক মাসিক ইজতেমার আয়োজন করতেন।

মৃত্যু তারিখ :- ইতিহাসের এই মহিরুহ আমাদের সকলকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে ২৮/১২/২০১৪ ইং তারিখে রোজ রবিবার মোতাবেক ৭ রবিউল আওউয়াল ১৪৩৬ হিঃ দিবাগত রাতে ইহজগৎের মায়া ত্যাগ করে পরম প্রভুর সান্নিধ্যে চলে যান।ইন্না-লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মোবাইল :- 01838632318

Manual7 Ad Code

তথ্য দানকারীর নাম :- MD Hojayfa Tamimi

তথ্য দানকারীর মোবাইল :- +8801838-632318

Spread the love