সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

মাওলানা মুহিব্বুল হক মাদফুনে মাক্কী রাহি.

September 01 2026, 06:00

নাম :- মাওলানা মুহিব্বুল হক মাদফুনে মাক্কী রাহি.

জন্ম তারিখ / জন্মস্থান :- ০১.০১.১৯২৩ ঈসায়ী।পর্বতপুর,চতুল বাজার, কানাইঘাট, সিলেট।

শৈশব কাল :- তিনি শৈশব থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই জ্ঞানার্জনের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। পরিবার ও শিক্ষকদের উৎসাহে তিনি নিয়মিত পড়াশোনা করতেন এবং নৈতিক শিক্ষা অর্জনে মনোযোগী ছিলেন। নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি অধ্যবসায়, ধৈর্য ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষাজীবনে সফলতা অর্জন করেন। শৈশবের এই সুশিক্ষা, চরিত্রগঠন ও জ্ঞানপিপাসাই পরবর্তীকালে তাঁকে একজন খ্যাতিমান আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে।

শিক্ষা জীবন :- তিনি চতুল ঈদগাহ আলিয়া মাদ্রাসা, খরিলহাট মাদ্রাসা, সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা এবং দারুল উলূম কানাইঘাট মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেন। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, অধ্যবসায়ী ও প্রখর ধীশক্তির অধিকারী। অসাধারণ মেধা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি প্রায় প্রতিটি জামাতেই প্রথম স্থান অধিকার করে শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশংসা অর্জন করেন।

কর্ম জীবন :- কানাইঘাট দারুল উলুম মাদ্রাসা, লাফনাউট মাদ্রাসা, বারহাল মাদ্রাসা, বড়বন্দ মাদ্রাসা, মালিগ্রাম মাদ্রাসা, চতুল ঈদগাহ মাদ্রাসা।

অবদান :- শিক্ষক, ছাত্র, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন

যাঁদের সান্নিধ্যে শিক্ষালাভ

তিনি নিজে তৎকালীন উপমহাদেশের প্রখ্যাত মনীষীদের সান্নিধ্যে শিক্ষালাভ করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন—
শাইখুল ইসলাম আল্লামা মোশাহিদ বায়মপুরী রহ.
শেরে জৈন্তা মাওলানা হুসাইন আহমদ জৈন্তাপুরী (রহ.)
মাওলানা ফাযিল ছাহেব (রহ.)

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রবৃন্দ
তাঁর হাতে গড়ে ওঠা বহু আলেম-উলামা পরবর্তীকালে দেশ-বিদেশে দ্বীনের খেদমতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
শায়খ আবদুল্লাহ হরিপুর রহ.
মাওলানা মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস লক্ষিপুরী (হাফি.)
মাওলানা আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী হাফি.
মাওলানা শিহাবুদ্দী চতুলী রহ.
মাওলানা মুহিব্বুল হক গাছবাড়ি রাহি.
মাওলানা নুরুল ইসলাম চতুলী (রহ.)
মুফতি মাহমুদ চতুলী (রহ.)
মাওলানা আব্দুল লাতিফ চাউরী (রহ.)
মাওলানা আবদুল হক বড়চতুলী হাফি.

বিশিষ্ট বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীগণ
তাঁর বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ছিলেন—
ব্রিটিশ এম.এল.এ. মাওলানা ইব্রাহিম চতুলী
ব্রিটিশ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী
মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ
মন্ত্রী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান
এমপি হাবিবুর রহমান (তুতা উকিল)
ব্যারিস্টার হাবিব আহমেদ
বিচারপতি আব্দুস সাত্তার

রাজনৈতিক ও জনসেবামূলক জীবন
পাকিস্তান আমলে মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থা চালু হলে তিনি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং একবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু হলে তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের গ্রাম সরকার প্রতিনিধি ফোরামের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া তিনি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সালিশি কমিটির সমন্বয়ক ও হাকিম হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শিক্ষা বিস্তারে অবদান
তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। নিজে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন।
কানাইঘাট কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও দুর্গাপুর উচ্চবিদ্যালয় এবং বারহাল আলিয়া মাদ্রাসা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিভিন্ন মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য

তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের সামাজিক জীবনের নানামুখী সমস্যা সমাধানে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে মানুষের কল্যাণ, সমাজসেবা এবং মানবিক দায়িত্বকেই সর্বদা অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী ও সদালাপী। সুন্নাহর প্রতি তাঁর ছিল গভীর ভালোবাসা ও আন্তরিক অনুসরণ। পোশাক-পরিচ্ছদ, আচার-আচরণ এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণের সর্বাত্মক চেষ্টা করতেন।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল, পরহেজগার ও তাহাজ্জুদগুজার একজন আল্লাহভীরু মানুষ। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইলমে মারিফাত ও আধ্যাত্মিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তাঁর জীবনে বহু করামতের ঘটনাও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল।

বিশেষভাবে তিনি মাতৃসেবায় অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, যা তাঁর উত্তম চরিত্রের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুশাহিদ বায়মপুরী (রহ.)-এর তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয় ও খাস ছাত্র। তাঁর উস্তাদের বিশেষ দোয়া ও স্নেহ সর্বদা তাঁর ওপর বর্ষিত ছিল, যা তাঁর জীবন ও কর্মে সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

মৃত্যু তারিখ :- ০৭.১১.২০০৮ ঈসায়ী।হজ্জ পালনরত অবস্থায় মক্কা মুকাররমায় হরমোন শরীফে এশার নাম আদায় করার লক্ষে অজু করে হরমের ফটকের সামনে ইন্তিকাল করেন।

মোবাইল :-

তথ্য দানকারীর নাম :- সালেহ আমিন

তথ্য দানকারীর মোবাইল :- ০১৭১৫৮৬৯১৫৪

Spread the love