সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

মাওলানা ফখরুল ইসলাম রহ.

September 01 2026, 05:50

নাম :- মাওলানা ফখরুল ইসলাম রহ.

জন্ম তারিখ / জন্মস্থান :- 1973, গফরগাঁও

শৈশব কাল :- পাঁচ-ছয় বছর বয়সে তাকে তাঁর বাবা ও চাচার প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় নূরানী মকতবে ভর্তি করা হয়। কয়েক বছর এখানে থেকে নাজেরা কুরআন শরীফ ও প্রাথমিক পড়াশোনার পাঠ সমাপ্ত করেন। নাযেরা শেষে হিফজ সবক দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ভগ্ন স্বাস্থ্য ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে মাস কয়েক পর হিফজ ছাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই সময়ে তাদের পরিবার চরম দারিদ্র্য ও সংকটের মধ্যে কালাতিপাত করছিল। তাঁর পিতা কাপড়ের ব্যবসায় ধ্বস এবং ঋণের দায়ে অনেকটা নিঃস্বের পর্যায়ে চলে গিয়েছিলেন।
সেই সময়কার কঠিন অবস্থার স্মৃতিচারণ করে তাঁর মাতা বলেন, অনেক সময়ই এমন হতো, পরপর দু’ তিন দিন ঘরে চাল কেনার ব্যবস্থা করা যেত না। এক বেলায় হয়তো লাল আটার রুটি আর দু’বেলা সেদ্ধ মিষ্টি আলু ও পানি; এই হতো তাদের ঘরের সবার খাবার। তখন তাঁর ছোট আরও তিন ভাই ছিল। কিন্তু আল্লাহ এই পরিবারের ছোট বড় সবার মধ্যে সবর ও শোকরের দৌলত দান করেছিলেন। তাই পাশের প্রতিবেশীরাও তাদের ঘরের অভাব অনটনের কথা কিছুই জানতে পারতো না।
এই অবস্থায়ও তাঁর মা-বাবা সন্তানদের তালীম- তারবিয়াত ও শিক্ষা-দীক্ষার প্রতি পূর্ণ মনোযোগী ছিলেন। এবং এ জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিলেন।

শিক্ষা জীবন :- শিক্ষাজীবন
আনুমানিক ১৯৮৪ সালে তাঁর বয়স যখন এগারো বছর তখন তাকে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন সাগরদ্বীপ হাতিয়ার ফয়জুল উলূম মাদরাসায় পাঠানো হয়।
এখানে তিনি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুফতীয়ে আজম ফয়জুল্লাহ রহ. এর খলিফা মুফতী সাইফুল ইসলাম রহ. এর বিশেষ স্নেহদৃষ্টি লাভ করতে সক্ষম হন এবং অল্প বয়স সত্ত্বেও তাঁর একান্ত কাছাকাছি থাকার ও খেদমত করার সৌভাগ্য অর্জন করেন।
হযরত মুফতী সাহেব রহ. এর ব্যক্তিত্ব ছিল পরশপাথরতুল্য। নিভৃত প্রচারবিমুখ এই মনীষী ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। বিদআতের প্রতি ঘৃণা এবং সুন্নাতের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ ছিল তাঁর চরিত্রের ভূষণ।
তাঁর সান্নিধ্যে যারা আসত তারা এই চেতনার ছিটেফোঁটা কিছুটা হলেও লাভ করত। দীর্ঘ দশ বছর এই মনীষীকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে তিনি একান্তভাবে অনেকটা তাঁরই প্রতিরূপ হয়ে উঠেছিলেন বলাটা সম্ভবত ভুল হবে না।
এই সময়কালে তিনি তাদের এলাকার অনেক ছেলেকে উৎসাহ দিয়ে হাতিয়া নিয়ে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল তারাও যেন দ্বীনের পথে আসে। তারাও যেন দ্বীনের সহীহ বুঝ পায়।
ওদেরকে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হতো খাবার নিয়ে। মাদরাসায় বোর্ডিংয়ের ব্যবস্থা ছিল না। বিচ্ছিন্ন দরিদ্র দ্বীপ এলাকায় এত সহজে জায়গীরও হতো না। জায়গীরের শর্ত হতো ঘরের বাচ্চা পড়ানো ও বিভিন্ন কাজ করে দেওয়া।
একটু এদিক সেদিক হলেই জায়গীর ছুটে যেত। তিনি ও তাঁর ছোট ভাইয়েরা তখন নিজেদের একজনের খাবার দু’জন তিনজনে ভাগ করে খেতেন এবং অনেক সময় তিনি নিজে নির্জলা উপোস থেকে ওদেরকে খাওয়াতেন।
১৯৯৪ ঈ. সনে হাতিয়ায় জামাতে শরহে বেকায়া পর্যন্ত পড়া শেষ করার পর মুফতী সাহেব রহ. এর নির্দেশক্রমে হাটহাজারি দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসায় ভর্তি হন। এখান থেকে তিনি ও তাঁর ছোট ভাই মাওলানা মাহবুব রহ. একই সাথে ১৯৯৮ ঈ. সনে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করেন।
হাটহাজারিতে তাঁর আসাতিযায়ে কেরামের মধ্যে ছিলেন মুহাদ্দিস মাওলানা আব্দুল আযিয রহ., মুফতীয়ে আজম আল্লামা আহমাদুল হক রহ., আল্লামা হারুন ইসলামাবাদী রহ., আল্লামা শাহ আহমাদ শফী রহ., মুফতী নূর আহমাদ দা.বা., মাওলানা শাইখ আহমাদ দা.বা., এবং মুফতী কিফায়াতুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ প্রমুখ।
পরবর্তীতে হযরত মাওলানা শাইখ আহমাদ সাহেব, মুফতী নূর আহমাদ সাহেব এবং মুফতী কিফায়াতুল্লাহ সাহেব (হাফিযাহুমুল্লাহ)-এর সাথে সুগভীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আল্লামা শাহ আহমাদ শফী রহ. হাতে বাইআত হয়ে তাঁর কাছ থেকেই খিলাফত লাভ করেন।

কর্ম জীবন :- দাওরায়ে হাদীস শেষ করার পর এক বছর হাতিয়ায় মুফতী সাহেব হুযুর রহ. এর সান্নিধ্যে অবস্থান করেন এবং তারপর চার বছর নোয়াখালীর রামগঞ্জের এক মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। এখানে অবস্থানকালে ১৪২১ হিজরির ২৪ শে শাওয়াল মুতাবিক ১৯৯৯ সালে হযরত মুফতী সাহেব হুযুর রহ. আল্লাহ পাকের ডাকে সাড়া দেন এবং ২০০২ ঈ. সালের শেষ দিকে তাঁর পিঠাপিঠি ছোট ভাই, তাঁর সকল কাজ-কর্মের ছায়াসঙ্গী মাওলানা মাহবুব রহ. অত্যন্ত আকস্মিকভাবে মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। তাঁর জন্য ও তাঁর পুরো পরিবারের জন্য এটা ছিল খুবই বিয়োগান্ত ঘটনা। এর মধ্যে তাঁর আব্বা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় ২০০৩ ঈ. সালে বাড়িতে চলে আসেন। এর কিছিুদিন পরই ২০০৩ ঈ. সালের মার্চ মাসে তাঁর বাবাও আল্লাহ পাকের ডাকে সাড়া দেন।
সে বছরই, ২০০৩ ঈ. সালের আটই ডিসেম্বর তাঁর পিতার সেই নির্বাচিত স্থানেই একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে দারুল হুদা মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘর, দশ-বারোজন ছাত্র এবং তিনি নিজে একমাত্র শিক্ষক! এ ছাড়া মাদরাসার আর কোনো বাহ্যিক উপায় উপকরণ ছিল না। আল্লাহ পাকের অশেষ রহমতে তাঁর ইন্তিকাল পর্যন্ত মাত্র ষোল বছর সময়কালে মাদরাসার ছাত্রসংখ্যা প্রায় দুই হাজার ছুঁয়ে যায় এবং দাওরায়ে হাদীসের পর উচ্চতর পড়াশোনার জন্য তাফসীর ও ইফতা বিভাগ চালু হয়।
এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পর তাঁর জীবনের শেষ ষোলটি বছরের প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত কেটেছে অক্লান্ত পরিশ্রম , সাধনা, মুজাহাদা আর বিনিদ্র রাত্রি জাগরণে। বিশ্রাম কী জিনিস তা তাঁর জীবনের অভিধান থেকে মুছে গিয়েছিল।
দৈনিক বারো-চৌদ্দটি এমনকি কোনো কোনো দিন বিশটিরও অধিক দরস দিতে হতো। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ইসলাহী মজলিস, দ্বীনী মাহফিল, দাওয়াতী সফর, মাদরাসার জমি ক্রয় এবং ঘর তৈরি, আগন্তুক মেহমান ও দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎদান,ছাত্রদের তারবিয়াতী বয়ান ইত্যাদি নানা কাজে সারাদিন তাঁর নিঃশ্বাস ফেলার উপায় থাকত না।
সারাদিন এত পরিশ্রমের পরও রাতে এক-তৃতীয়াংশের বেশি ঘুমাতেন না। বাকি সময়টুকু তাঁর কাটতো দুআ, মুনাজাত ও তাসবীহ তাহলীলে। কখনো কখনো হৃদয় আকুল করা প্রাণস্পর্শী কিছু উর্দু কবিতা আবৃত্তি করতেন।
শেষ রাতের কোলাহলমুক্ত শান্ত নীরব এই সময়টুকুতেই তিনি জীবন সাধনার সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করতেন। এ ছিল তাঁর কর্মশক্তির প্রদীপে তেলসিঞ্চনের মত।
নিজের ছাত্র, মুরিদ-মুহিব্বীনদেরও তিনি একই উপদেশ দিতেন। বলতেন, “ভাই! মাখলুকের কী শক্তি আছে? যার যা সমস্যা, যার যা প্রয়োজন সব আল্লাহর কাছে বলে আল্লাহর কাছ থেকেই সমাধান চেয়ে নাও! বান্দা থেকে বে-নিয়ায হয়ে যাও। যার কাছে বললে ফল হবে তাঁর কাছেই বল। জায়নামায বিছাও, রাতের অন্ধকারে দুই ফোঁটা চোখের পানি ফেল আর দুনিয়া আখিরাতের যা কিছু চাওয়া সব তাঁর কাছে বলে তাঁর কাছ থেকেই আদায় করে নাও”।
‘রেযা বিল ক্বাযা’ বা আল্লাহর যে কোনো ফায়সালার উপর সন্তুষ্টি তাঁর স্বভাবের অংশ হয়ে গিয়েছিল। সমস্যা যত বড় আর যত কঠিনই হোক, কখনও তিনি বিচলিত হতেন না। আল্লাহর শানে অভিযোগমূলক একটি শব্দও কোনোদিন তিনি উচ্চারণ করেননি। জীবনের শেষ তিন চার বছর চরমতম শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে দিনাতিপাত করেছেন। এ সময়ও কেউ তাঁর স্বাস্থ্যের ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা করলে পরম পরিতুষ্টির সাথে ঠোঁটে অনাবিল হাসি ফুটিয়ে বলতেন, “আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ যে অবস্থায় রেখেছেন সে অবস্থায় অনেক ভালো আছি”।
ক্ষমা ও মহত্ত্ব ছিল তাঁর চরিত্রের ভূষণ। যে যত কষ্টই দিক, তার প্রতিশোধ নেওয়া দূরে থাক, সামান্য কোনো কটু কথাও বলতেন না। বলতেন, আমাকে অতীতে যারা কষ্ট দিয়েছে, এবং ভবিষ্যতে যারা কষ্ট দিবে সবাইকে মাফ করে দিয়েছি।
বিদআত বিলুপ্ত করা আর সুন্নাত যিন্দা করা ছিল তাঁর জীবনের সমস্ত কর্ম ও সাধনার মূল লক্ষ্যবিন্দু। তাঁর বয়ানের প্রধান বিষয় ছিল সুন্নাত-বিদআত। ব্যক্তি জীবনেও তিনি পরিপূর্ণভাবে সুন্নাতের অনুসারী ছিলেন।
জীবনে তিনি দুই হাজারেরও অধিক মাহফিলে বয়ান করেছেন এবং এ উপলক্ষে দেশের আনাচে কানাচে অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে সফর করেছেন। তাঁর বয়ানের প্রভাবও ছিল ব্যাপক। অত্যন্ত সাধারণ ভাষায় সহজ সরলভাবে তিনি কুরআন হাদীসের উদ্বৃতি দিয়ে বক্তব্যের বিষয় উপস্থাপন করতেন। কখনও কোনো কিচ্ছা কাহিনী বলে বা সুর করে মাহফিলে মানুষ জমানোর চেষ্টা করতেন না। তার পরও সব সময়ই তাঁর বয়ানে শ্রোতারা বেশি আগ্রহ বোধ করত এবং অধিক প্রভাবিত হতো।

অবদান :- যারা সুন্নাত প্রতিষ্ঠা ও বিদআত নির্মূলের মহান দায়িত্ব আঞ্জাম দেন তাদেরকে বলা হয় মুজাদ্দিদ বা দ্বীনের সংস্কারক। দারুল হুদা মুহিউস সুন্নাহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা বড় হুজুর মাওলানা ফখরুল ইসলাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি আক্ষরিক অর্থেই ছিলেন এই উম্মতের একজন অন্যতম মুজাদ্দিদ। অল্প কয়েক বছরের মেহনতে তিনি গফরগাঁওবাসীর ঘরে ঘরে সুন্নাতের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। সমাজে প্রচলিত অনেক বিদআত ও কুসংস্কার, যেগুলোকে মানুষ দ্বীন মনে করত, সে সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করেছেন। মানুষকে সুন্নাত তরীকার অযু, নামাযসহ সকল আমল দেখিয়ে দেখিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। সুন্নাত তরীকার কবর সম্পর্কে অনেক মানুষ আগে জানত না। তাঁর মেহনতে বর্তমানে এলাকার প্রায় সব কবর সুন্নাত তরীকার হয়। বিবাহের নাজায়েয প্রচলন ত্যাগ করে মানুষ এখন সুন্নাত তরীকায় বিবাহ করে। মায়্যিতের জন্য ঈসালে সওয়াবের ভুল পদ্ধতি বর্জন করে সুন্নাত তরীকায় ঈসালে সওয়াব করে।
ফাসেক ফাজের তাঁর সান্নিধ্যে এসে মুত্তাকী আবেদে পরিণত হয়েছে। পুরুষরা দাড়ি রেখেছে। সুন্নাতী পোশাক ব্যবহার শুরু করেছে। বাড়িতে পর্দার পরিবেশ তৈরি করেছে। হারাম উপার্জন ত্যাগ করে কুরবানী মুজাহাদার দ্বীনী জিন্দেগী গ্রহণ করেছে। শেষ রাতে উঠে রবের দরবারে রোনাযারী করতে অভ্যস্ত হয়েছে।
তিনি ছিলেন একজন দুনিয়াবিমুখ নিভৃতচারী মহান বুজুর্গ। নাম, যশ, টাকা পয়সার লোভ মোটেও ছিল না। অনেকে মনে করত, হুজুর প্রতিদিন তিন চারটি মাহফিল করেন। কম হলেও তাঁর দৈনিক বিশ হাজার টাকা ইনকাম হয়। অথচ আমি নিজেই সাক্ষী, আমার দাওয়াতে অনেক মাহফিলে গিয়ে উনি এক টাকাও গ্রহণ করেননি। ইন্তিকালের বছর আমাদের এলাকার মাহফিলে গিয়েছিলেন। বারবার জোর করে তাঁকে ভাড়ার টাকাটাও দিতে পারিনি। পক্ষান্তরে উনাকে তাঁর অফিসে বসে যেভাবে দান করতে দেখেছি তা খুবই বিরল। মানুষ তাঁর নামে বিভিন্ন পদবী ব্যবহার করুক এটা তিনি খুবই অপছন্দ করতেন।
তিনি খুব ব্যস্ত মানুষ ছিলেন। কিন্তু তিনি কখনও তাঁর আচরণে ব্যস্ততা প্রকাশ করতেন না। বিভিন্ন জায়গা থেকে ছোট বড় অনেক মানুষ প্রতিনিয়তই বিভিন্ন কারণে দেখা করতে আসত। তিনি প্রত্যেককেই পর্যাপ্ত সময় দিতেন। তাঁর সাক্ষাতে সবাই তৃপ্ত হয়ে ফিরত। মানুষ তাঁর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শের জন্য আসত। তিনি তাৎক্ষণিক যে পরামর্শ দিতেন তা এত সুন্দর, উপযোগী ও ফলপ্রসু হতো যা কল্পনাও করা যেত না।
নাজায়েয ও গোনাহের কাজকে তিনি একদম সহ্যই করতে পারতেন না। মাহফিলে কখনো ছবি উঠাতে দিতেন না। এমনকি শুধু এ কারণে অনেক মাহফিলে বয়ান না করেই চলে আসতেন।
আম্বিয়ায়ে কেরামের বিশেষ এক বৈশিষ্ট্য মানুষের প্রতি দরদ ও শফকত। এটা তাঁর মধ্যে এত বেশি ছিল যে, শুধু মানুষ নয়; বরং ব্যাঙ পিপড়ারাও তা থেকে বঞ্চিত হয়নি। এটা তাঁর পরিবারের সবার অন্যতম এক বৈশিষ্ট। আমার উস্তাদ মুফতী হেমায়াতুল ইসলাম সাহেবকে আমি কাছে থেকে দেখেছি। ছাত্র জীবনে অনেক সময় তাঁর সাথে ট্রেনে ঢাকা যেতাম। মনে হলে চোখে পানি চলে আসে। তিনি ট্রেনে দাঁড়িয়ে থেকে আমাকে তাঁর আসনে জোর করে বসিয়ে দিতেন। দারুল ফিকরে থাকাকালীন একদিন রাত আনুমানিক ১২টায় আমি মুতালাআ করছিলাম। হঠাৎ আমার সারা শরীর ফুলে যেতে লাগল। এক ভাই আমার এ অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি হুজুরকে আস্তে করে ডাক দিলেন। অসুস্থতার কথা শুনে হুজুর কাঁচা ঘুম ভেঙ্গে তড়িঘড়ি করে উঠে পড়লেন। দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। দীর্ঘ সময় আমার অবস্থা স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে গেলেন না। এ মুহূর্তে এমন অনেক ঘটনা ও স্মৃতি মনে পড়ছে যা এখানে লেখার সুযোগ নেই। বড় হুজুর রহ. এর শফকত ও মহব্বতের প্রভাবে তিনি ছিলেন সব শ্রেণীর সকলের মহব্বতের পাত্র। ইন্তিকালের পর অল্পক্ষণে তাঁর জানাযায় লোকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আমি শেষরাত্রে নরসিংদী থেকে মোটরসাইকেলে করে আসছিলাম। রাস্তার ধারে এক অশীতিপর বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেছিলেন। আমাকে দেখে তিনি থামতে ইশারা করলেন। বললেন, আমাকে হুজুরের জানাযায় নিয়ে যান। উনাকে আমি মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিলাম। পুরো রাস্তা জুড়ে উনি হেঁচকি দিয়ে কেঁদে যাচ্ছিলেন। এটা তো একজনের কথা বললাম। পুরো এলাকাবাসীর একই অবস্থা ছিল।

মৃত্যু তারিখ :- ১৪ ই শাওয়াল ১৪৪১ হিজরি মুতাবেক ০৬ জুন ২০২০ ঈ.

মোবাইল :- 01711207677

তথ্য দানকারীর নাম :- মুস্তাফিজুর রহমান

তথ্য দানকারীর মোবাইল :- +8801796336612

Spread the love