সারাদেশের মাদ্রাসাসমূহ (বিভাগ ভিত্তিক)

মোহাম্মাদ মাহেরুদ্দীন

অক্টোবর ০৭ ২০১৯, ০৬:৩১

নাম :- মোহাম্মাদ মাহেরুদ্দীন

জন্ম / জন্মস্থান :- ১৩৪২ বঙ্গাব্দ(1935),বরাইদ,ভালুকা,মময়মনসিংহ।

শৈশব কাল :- মাওলানা, মুফতি মাহেরুদ্দীন বরাইদী নিজ জন্মস্থান \”বরাইদ\” গ্রামেই লালিত পালিত হন।এখানেই কালজয়ী এই মনীষীর শৈশবকাল কেটেছে।

শিক্ষা জীবন :- তিনি মাত্র দশ(১০)বছর বয়সেই এতীম অবস্থায় স্থানীয় আলেমদের নিকট থেকে পবিত্র কুরআনের বিশুদ্ধ পাঠ,বাংলা,উর্দু,ফার্সি এবং অন্যন্য বিষয়ের উপর জ্ঞান লাভ করেন।এরপর আলিয়া মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে\”কামিল\”ডিগ্রী লাভ করেন।পরবর্তীতে তিনি হাদীস এবং ফিকাহ শাস্ত্রে উচ্চ শিক্ষার জন্য 1963 সনে \”জামিয়া কুরআনিয়া\” লালবাগ,ঢাকায় ভর্তি হন।সেখানে তিনি \”মাওলানা জাফর আহমাদ উসমানী রাহ.,মাওলানা ইহতিশামুল হক থানবী রাহ.,মুফতী শফী রাহ.,মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ রাহ., প্রমুখ যুগ শ্রেষ্ঠ প্রখ্যাত বুজুর্গ উলামাদের থেকে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদিতে গভীর শিক্ষা লাভ করেন,এবং তাদের সান্নিধ্যে আধ্যাত্মিক ফায়েজ ও বরকত হাসিল করেন। এবং কৃতিত্বের সাথে \”জামিয়া কুরআনিয়া\”লালবাগ,ঢাকা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি টানেন।

কর্ম জীবন :- তিনি তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে স্থানীয় কাওমি এবং আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যাপনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে,টাঙ্গাইল জেলার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী\”দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসায়\”দীর্ঘ ত্রিশ (৩০)বছর হাদীসের সিনিয়র অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এসময় তিনি টাঙ্গাইল জেলার প্রধান মুফতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।অতঃপর ২০০২ সালে দেশ সেরা জাতীয় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মনোনীত হয়ে সরকার কর্তৃক স্বর্ণপদক লাভ করেন।তিনি শায়খ মাওলানা আবরারুল হক রাহ.এর সুন্নাহ ভিত্তিক অরাজনৈতিক সংগঠন \”মজলিসে দাওয়াতুল হক্ব,বাংলাদেশের\” টাংগাইল প্রতিনিধি এবং আমীরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।তিনি টাঙ্গাইল জেলার ঐতিহ্যবাহী\”ধুলেরচর মাদ্রাসা,বোয়ালী মাদ্রাসায় দ্বীনি খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন।

অবদান :- রূহানী তারবিয়তের জন্য তিনি\”ময়মনসিংহ বড় মসজিদের খতীব,থানবী সিলসিলার প্রখ্যাত বুজুর্গ এবং হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলি থানবী রাহ এর ছাত্র,প্রখ্যাত বুজুর্গ আলেম মাওলানা ফায়যুর রহমান রাহ. এর ছোহবতে থেকে দীর্ঘ ত্রিশ (৩০)বছর ইলমে মারেফাতের গভীর সাধনা-মোজাহাদা করেন।এবং 1993 সালে \”খিলাফত\” লাভ করেন।অতঃপর চট্রগ্রামের ঐতিহাসিক দ্বীনি মারকাজ \”নানুপুর মাদ্রাসার শাইখুল হাদীস,এবং প্রিন্সিপাল,মাওলানা শাহ জমীরুদ্দীন নাবুপুরী রাহ. এর ছোহবতে সময় কাটান,এবং 2009 সালে\” খিলাফত\”লাভ করেন।
তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বহু মাদ্রাসা,মসজিদ,খানকাহ প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনা করেছেন।নিজ জন্মস্থান বরাইদ গ্রামে এতীম,অসহায় শিশুদেরকে দ্বীনি শিক্ষায় সু শিক্ষিত করানোর উদ্দেশ্যে চল্লিশ (৪০)শতাংশ মূল্যবান জমি\”ওয়াকফ\”করে দিয়েছেন।এবং ২০০৭ সালে একটি ক্বাওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন।এই প্রতিষ্ঠানে সামাজিকভাবে অবহেলিত শিশুদেরকে বিনামূল্যে শিক্ষা,চিকিৎসা,কাপড়চোপড় দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।এবং ইলমে মারেফাতের মেহনত প্রচার,প্রসার এবং বিভ্রান্ত সাধারণ মুসলমানদেরকে সহিহ আক্বাইদ,ইমান,আমল শিক্ষা দেয়ার জন্য ওয়াকফকৃত ভূমিতে একটি \”খানকাহ\” প্রতিষ্ঠা করেছেন।এই খানকায় প্রতিমাসে\”ইছলাহী মজলিস\”অনুষ্ঠিত হয়।যারফলে ভালুকা উপজেলা এবং এর আশপাশের এলাকায় বিদাতি রুছম,রিওয়াজ,ভণ্ড পীরদের প্রভাব শুণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
তিনি একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি।যেহেতু নারীরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ,তাই তিনি নারীদের জন্য নিরাপদ এবং আদর্শ শিক্ষা লাভের সুযোগ দানের উদ্দেশ্যে পূনরায় বেয়াল্লিশ (৪২)শতাংশ অত্যন্ত মূল্যবান জমি আল্লাহর ওয়াস্তে \”ওয়াকফ\” করে দেন।এবং এর নামকরণ করা হয়\”মুফতি মাহিরুদ্দীন বালিকা মাদ্রাসা\”। ফলে এলাকায় নারীদের জন্য দ্বীনি শিক্ষার এক অবিস্মরণীয় প্রসার লাভ করেছে।তিনি নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন\” আদর্শ মা\’আদর্শ জাতি।তিনি ভালুকা উপজেলার কেন্দ্রীয় বড় মসজিদে দীর্ঘ দিন যাবত খতীব এবং প্রধান মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দ্বীনি খেদমতের অংশ হিসেবে তিনি বেশ কিছু ধর্মীয় বই লিখেছেন।এগুলোর অন্যতম হলো \”মারেফাত তত্ত্ব ও জিকিরের মাহাত্ম্য\”, কবর জগত,ওলীর আমল,আযান ইক্বামতের সুন্নাত তরিকা,কুরবানির ফাজাইল ও মাসাইল…ইত্যাদি।

মোবাইল :- 01756307888

তথ্য দানকারীর নাম :- জাহিদ সাইফুল্লাহ

তথ্য দানকারীর মোবাইল :- 01756307888

Spread the love