সারাদেশের মাদ্রাসাসমূহ (বিভাগ ভিত্তিক)

মাওলানা হাফিজ শায়েখ সৈয়দ ফুজায়েল আহমদ রঃ এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

মে ১৩ ২০১৯, ০৮:০৪

জন্ম : তিনি ০১-০৯-১৯৬৩ ইং সনে বরকতময় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলারঐতিহাসিক সৈয়দপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী আলেম পরিবারের কৃতি সন্তান। তিনি হজরত শাহজালাল রহ. এর অন্যতম সফর সঙ্গী আওলাদে রাসুল হজরত শাহ উমর সমরকন্দী রহ. এর বংশধর যার মাকবারা সিলেটের মানীক পীরের টিলায় অবস্থিত।

সৈয়দপুর আলিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়দ এমদাদ আলী রহ.তার পরদাদা। শাইখুল আরব ওয়াল আজম শায়খুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মদনী রহ. এর শীর্ষ খলিফা ও আল্লামা গহরপুরি রহ.এর শশুর এবং সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম শায়খ সৈয়দ আব্দুল খালিক রহ.তাহার দাদা। ওলিয়ে যামান আল্লামা লুতফুর রহমান শায়খে বর্ণবী রহ. এর খলিফা এবং সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদ্রাসার সাবেক মুহতামিম হাফিজ শায়খ সৈয়দ আবুসাইদ রহ. তাহার পিতা।

শিক্ষাজীবন: হযরতের শিক্ষা জীবন শুরু হয় পারিবারিক ইলমী পরিবেশ সৃষ্ট থাকায় ছোট বেলা থেকেই নিজ দাদার প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদরাসায় ভর্তি হন সেখানে শুরু থেকে হিফজ সহ মুখতাছারুল মায়ানী পর্যন্ত কৃতিত্বের সাথে লেখা পড়া করেন।অতপর আপন ফুফা আল্লামা গহরপুরী হুজুরের ফয়েজ ও বারাকাতের আশায় চলেযান গহরপুর মাদ্রাসায় সেখানেই তাকমীল ফিল হাদিস শেষ করেন।পরবর্তিতে বিভিন্ন ফনোনাতের উপর উচ্চতর ডিগ্রি হাসিল করেন দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারীতে। কর্মময়জীবন: লেখাপড়া যখন শেষ করলেন তখন তাহার হুসনে আখলাক এবং ইলমের ফখরতা দেখে তাহার নীজগ্রাম ও নিজ দাদার প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদ্রাসায় উস্তাদ হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

অল্পদিনে তাহার দক্ষতা ও ইলমী হাইসিয়ত বিবেচনা করে মুহাদ্দিস হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।পরবর্তিতে এলাকাবাসী তাকে সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদ্রাসার নাজিমে তালীমাতের দায়িত্ব প্রদান করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেইসব দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে আন্জাম দিয়েগেছেন।হযরত দীর্ঘদিন সৈয়দপুর মাদরাসা মসজিদ ও সৈয়দপুর শাহ শামসদ্দিন রহ.দরগাহ মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘ দিন সৈয়দপুর ইমদাদুল উলূম নুরানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিমের দায়িত্ব আদায় করেন। হাফিজ মাওলানা সৈয়দ ফুজায়েল আহমদ রহ. ৫৫ বছরের সল্প হায়াতে জিন্দেগিতে দীর্ঘ ২৮ বছর মাদরাসায় দ্বীনি খেদমত করেছেন,যার সুবাদেই হাজার হাজার ছাত্র ইলমী ফায়দা লাভ করেছেন,উস্তাদ হিসাবে তিনি একজন আদর্শ উস্তাদ ছিলেন। তাহার পড়ানোর সিস্টেম ছিল খুব সাবলীল ও আকর্ষনীয় ছাত্রদের খুব ফায়দা হত। ছাত্রদের খুব প্রিয় উস্তাদ ছিলেন তিনি। এলাকায় দীর্ঘ ২০ বছর ইমামতী করেন ইমাম হিসাবে তিনি একজন আদর্শ ইমাম ছিলেন।

তিনি একজন দক্ষ হাফিজে কুরআন ছিলেন ৪০ বছর তিনি খতমে তারাবী পড়িয়েছেন, একজীবন তিনি একাকি তারাবী পড়ান,দুই যুগেরও বেশি ওয়াজ মাহফিলে ওয়াজ করেছেন,এলাকায় তিনি একজন সুষ্ঠ ও সার্থক খতিব ছিলেন,১০ বার পবিত্র হজ্ব পালন করেছেন। অনেক ব্যক্তিত্ব থাকার পরেও নিজেকে নিয়ে অহংকার করতেন না,সাদাসিধে জিন্দেগানি কাটিয়েছেন। হাফেজ মাওলানা শেখ সৈয়দ ফুজাইল আহমাদ রঃ ছিলেন,পীরে যমান মুরর্শিদে কামীল শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা শেখ খলিলুর রহমান বর্ণভী(দাঃবাঃ) সাহেবের অত্যান্ত প্রিয়ভাজন খলিফা। শায়েখ ফুজায়েল আহমদ রহ.শুধু গুমনাম সখছিয়ত ছিলেননা, যখন দেখতেন ঈমান ও ইসলামের উপর আঘাত আসছে তখন থাকতেন বীর বেশে রাজপথে সবার আগে প্রতিবাদ জানাতে,রাজনৈতিক ভাবে আকাবির ও আসলাফের সংগঠন জমিয়তের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো।

আন্দোলন সংগ্রামে একজন অভিভাবক ছিলেন,১৯৯৪ সালে তাসলীমা নাছরীন বিরোধী আন্দোলনে জগন্নাথপুরে হরতালে অংশ গ্রহণ করে নেতৃত্ব দেন,২০১৩ সালের হেফাজতের ঐতিহাসিক অবরোধে হযরতের নেতৃত্বে সৈয়দপুর থেকে বিশাল কাফেলা ঢাকায় অংশ গ্রহণ করেন,২০১৪ সালের লতিফ কাজ্জাবীর হজ্ব নিয়ে বিরোধিতা করায় সৈয়দপুরে তাৎক্ষণিক আন্দোলন তারই নেতৃত্বে হয়েছিল।সমাজে ইসলামি পরিবেশ নববী আদর্শ বিস্তার করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন,এছাড়া ও অনেক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। মৃত্যের কিছুদিন আগে অসুস্থ হয়ে পরলে, জীবনের শেষ রমজানে এসে সুস্থ হয়ে যান, রমজানে ভালভাবে রোজা তারাবী তাহাজ্জুদ সহ বিভিন্ন আমলে অন্যন্য বছরের চেয়ে ভাল সময় ব্যায় করেন, জীবনের শেষ দিন ফজরের নামাজ আদায় করেন ঐদিন ১ জুলাই ২০১৭ইং শনিবার সকাল ৯ টায় মাওলার ডাকে সারাদিয়ে পরলোক গমন করেন।

মৃত্যেকালে আদরের একভাই ইউরোপ জমিয়তের যুগ্ন মহাসচিব হাফিজ মাওলানা সৈয়দ জুনায়েদ আহমদ ও তিনবোন,স্ত্রী ও ৫ ছেলে ৫ মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। তার মৃত্যেতে এলাকাবাসী একজন দক্ষ হাফিজ, বিজ্ঞ আলেম,আদর্শিক পুরুষ, নিরলস খাদেম,আল্লাহ ওয়ালা বুযোর্গ হারিয়েছে, আমরা হারিয়েছি আমাদের অভিভাবক। মৃত্যের দিন শনিবার বাদ আসর সৈয়দপুর মাদরাসার ঈদগাহ ময়দানে হাজার হাজার আলেম হাফিজ ভক্ত শিষ্যদের উপস্থিতিতে মরহুমের বড় ছেলে হাফিজ মাওলানা সৈয়দ সুহাইল আহমদ জানাজার নামাজের ইমামতী করেন,পরে দাদা বাবা মা’র পাশে পারিবারিক কবর স্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন। হযরতের উর্ধতন পুর্ব পুরুষের কারনে অত্র এলাকায় দ্বীনের বহুবীদ খিদমাত হয়। আল্লাহ পাক যেন হযরতকে জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নেন এবং তাহার পরিবার পরিজনকে নিমাল বদল ও ছবরে জামিল দান করেন।আল্লাহ পাক যেন হযরতের রুহানি ফয়েজ দ্বারা আমাদের ফয়যিয়াব করেন,আমিন। লেখক হাফিজ মাওলানা সৈয়দ সুহাইল আহমদ উস্তাদ সৈয়দপুর দারুল হাদিস মাদ্রাসা।

 

তথ্যদাতা: সুহাইল আহমদ

Spread the love