সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

মাওলানা সুলাইমান নোমানী দা.বা. এর জীবন ও কর্ম

February 14 2021, 08:47


Manual7 Ad Code

নাম :- আল্লামা সুলাইমান নোমানী

জন্ম / জন্মস্থান :- জন্ম : ১৯৩৯ সালে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার আড়ুই নামক গ্রামে জন্ম গ্রহণ করে।

শৈশব কাল :- তিনি শৈশব থেকেই পড়াশুনার প্রতি অনেক মনোযোগী ছিলেন ।প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের স্কুলে শুরু করেন। প্রথমদিন স্কুলে ক্লাস করে আর কখনোই স্কুলে যাননি। পরের দিন থেকেই মাদ্রাসার জীবন শুরু করেন।

Manual5 Ad Code

শিক্ষা জীবন :- শিক্ষাজীবন :
তিনি ছোটোবেলা থেকেই প্রচুর ডানপিঠে ছিলেন। বাবা-মায়ের কাছেই প্রাথমিক শিক্ষা-দীক্ষা গ্রহণ করেন।
তার বাবা পাড়ার অন্যান্য ছেলেদের সাথে প্রথমে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। বাড়ির পাশেই ছিলো স্কুল।স্কুলে গিয়ে দেখতে পান তার শিক্ষক ধূমপান করছেন। তা দেখে তিনি আর কখনই স্কুলে যাননি।

তারপর বরুড়ার ঐতিহ্যবাহী মাদরাসায় ভর্তি হোন। সেখানে হেদায়া পর্যন্ত পড়েন। অন্যতম আকাবির আল্লামা তাফাজ্জল হক হবিগঞ্জী (রহঃ) কাছে মাকামাতে হারিরীর দরস লাভ করেছেন।

Manual2 Ad Code

তারপর তিনি উম্মুল মাদারিস জামিয়াতুল আহলিয়া মইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় জালালাইন জামাতে ভর্তি হন।

হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাঁর মেধার স্বাক্ষর প্রতিফলিত হতে থাকে। ধারাবাহিক সফলতা তাঁর পদচুম্বন করতে থাকে। তিনি শিক্ষা জীবনে সবসময় ক্লাসের প্রথম স্থান অধিকার করতেন।

এখানে তৎকালীন সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেম আল্লামা আব্দুল কাইয়ুম চাটগামী (রহ). এর কাছে বুখারী শরীফ পড়েন। তৎকালীন হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা আব্দুল ওয়াহ্হাব চাটগামী (রহ). এর অত্যান্ত কাছের ও স্নেহভাজন হিসেবে তিনি সবার কাছে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ফলে অল্প সময়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তাকমীল জামাত পড়ার পর আরো তিন বছর তার স্বীয় ওস্তাদ আল্লামা আব্দুল ওয়াহ্হাব চাটগামী (রহ)এর কাছে তিনি মান্তেক, বালাগাত ও দর্শন বিদ্যা শিখেন।

শিক্ষকবৃন্দ :
আল্লামা সুলাইমান নোমানী ( দা.বা.) তার ছাত্র জীবনে তখনকার সময়ের যুগশ্রেষ্ট উস্তাদদের কাছে দরস নেয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছেন। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ কয়েকজন হলেন আল্লামা আব্দুল ওয়াহ্হাব চাটগামী,আল্লামা আব্দুল কাইয়ুম চাটগামী,শাইখুত তাফসীর আল্লামা আবুল হাসান,মুফতীয়ে আজম আল্লামা আহমাদুল হক,মুফতি আব্দুল ওয়াহ্হাব (বরুড়া),শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী,আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী,আল্লামা কারী ইব্রাহিম(মুমিন বাড়ি হুজুর) রহ.সহ বিশ্ববরেণ্য ওলামায়ে কেরামের কাছে তিনি দরস লাভ করেন।

কর্ম জীবন :- শিক্ষকতা :
দীর্ঘ ২৭ বছর যাবৎ অর্জিত জ্ঞানকে প্রচারের নিমিত্তে তার উস্তাদ ও পীর আল্লামা আব্দুল ওয়াহ্হাব চাটগামী রহ.এর নির্দেশে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেনী শশর্দী মাদরাসায় অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন। শশর্দী মাদরাসায় ৪ বছর শিক্ষকতা করেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে ঢাকার ফরিদাবাদ মাদরাসায় যোগদান করে চারবছর সুনাম ও সুখ্যাতির সাথে শিক্ষকতা করেন। এ সময় তিনি অনেক মেহনতী, যোগ্যতাসম্পন্ন ও দেশদরদী ছাত্র তৈরি করেছিলেন।

Manual5 Ad Code

ফরিদাবাদে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সিনিয়র মোহাদ্দিস ও শাইখুত তাফসীর এর দায়িত্ব পালন করেন। তারপর ১৯৮২ সালে চলে আসেন জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে। এখানে অত্যান্ত দক্ষতার সাথে হাদিস, তাফসীর ও দর্শন বিদ্যা দরস দান করেন। এখানে ৫ বছর শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি ১৯৮৪ সালে উনার স্বীয় পীর ও মুর্শিদ আমীরে শরীয়ত হজরত হাফেজ্জী হুজুর রহঃ এর নির্দেশে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া দ্বীনিয়া শামসুল উলূম পীর জঙ্গী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন মোহাম্মদপুর জামেয়া মোহাম্মদীয়ায় শাইখুল হাদিস
ও সদরে মুফতি ছিলেন। তিনি অত্যান্ত যোগ্যতা ও মেহনতের সাথে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া,কামরাঙ্গীরচর,জামিয়া ইসলামিয়া মুসলিমবাগ,মাদ্রাসা ফয়জুল উলূম আজিমপুর,জামেউল উলূম মিরপুর,জামেয়া সাভার ব্যাংক কলোনী মাদ্রাসা সহ প্রায় ১৫টি মাদ্রাসায় ৪০ বছর যাবৎ সর্বোচ্চ হাদিস গ্রন্থ সহীহ বুখারীর দরসদান দিয়ে আসছেন।

আধ্যাত্মিক জীবন :
আল্লামা সুলাইমান নোমানী সাহেব কিশোর বয়স থেকেই ইবাদাত প্রিয়। ইসলামী বিধিবিধানের প্রতি তার ঝোঁক বরাবর অবাক করার মতো। এ বৃদ্ধ বয়সে মানুষটি যেভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে নামাজ আদায় করেন তা যে কাউকে বিস্মিত করে।

বায়আত গ্রহণ :
তিনি আল্লামা আব্দুল ওয়াহ্হাব চাটগামী রহ.এর কাছে প্রথমে বায়আত হোন।
তিনি তার ব্যক্তিগত খাদেম ছিলেন।

ঢাকা আসার পর আমীরে শরীয়ত হজরত হাফেজ্জী হুজুর রহঃ এর হাতে পুনরায় বায়আত হোন। এরপর ১৯৭৫ সালে খেলাফত লাভ করেন।

আল্লামা নোমানী একজন দেওবন্দী মাসলাকের আলেম। সর্বদা সুন্নাতের অনুসরণ ও আকাবির আসলাফের দেখানো পথে চলেন। সাদাসিধে জীবন তার ঐকান্তিক ব্রত। রাসূলুল্লাহ সা. এর হাদীসের খেদমাত আর সমাজে ইলমে দ্বীন পৌঁছে দেয়ার জন্য সর্বদা মগ্ন থাকেন এ রাহবার। কালক্রমে তিনি এখন বৃদ্ধ বয়সে উপনীত। তার কাছে হজার হাজার মানুষের মুরীদ হওয়ার চাহিদা এবং অনেক পীড়াপীড়ির পরও তিনি বিষয়টিকে এড়িয়ে যান। কাউকে মুরীদ বানাতে আগ্রহী দেখানোতো অনেক দূরের বিষয়।

প্রচারবিমূখ এ আধ্যাত্মিক রাহবার আল্লামা নোমানী তেমন কাউকে খেলাফত দেননি। তিনি খেলাফত লাভ করেছেন প্রায় ৪৫ বছর পূর্বে। কিন্তু এ দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১০ জন আলেমকে খেলাফত দিয়েছেন। তন্মধ্যে গাজীপুরের মাওলানা মুফতি লেহাজ উদ্দিন,মাওলানা ডঃ মুস্তাক আহমদ,মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, মুফতি আবুল বাসার নোমানী,মুফতি আনোয়ার (সাভার ব্যাংক কলোনি),মুফতি হুসাইন আহমদ (জামাতা) প্রমুখ।

অবদান :- রাজনৈতিক জীবন :
রাসূলুল্লাহ সা. এর জীবনের অন্যতম একটি দিক ছিলো রাজনীতি। তখনকার সময়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদী তিনি রাজনীতির মাধ্যমে সমাধান করতেন। প্রিয় নবীজির অনুসরণ ও সুন্নাত হিসেবে আল্লামা সুলাইমান নোমানী সাহেবও রাজনীতিতে যুক্ত। তিনি ইবাদাত মনে করে রাজনীতি করেন।

রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি হজরত হাফেজ্জী হুজুর রহঃ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের ১৯৮১ সাল থেকেই তিনি খেলাফতের একনিষ্ঠ সক্রিয় কর্মী। তিনি বিভিন্ন সময় সংগঠনটির সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি এই সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা তথা শরিয়াহ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে আছেন।

খতিব ওবাইদুল হক রহঃ থাকাকালীন দেশের আলোচিত অরাজনৈতিক সংগঠন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফ্ফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ জোরালো ভূমিকা রাখেন। এবং বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানের আলোচিত অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন।

হাদিস শরীফের দরসদান :

খতীবে আহলে সুন্নাতওয়াল জামাত আহসানুল মুনাজির আল্লামা সোলাইমান নোমানী সাহেব এই মেশকাত শরীফের মাধ্যমেই খেদমাত শুরু করেছেন। কিন্তু এরপর ১৯৮১ সাল থেকে অদ্যাবধি ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ চল্লিশবছর ধরে বুখারীর দরস প্রদান করে আসছেন।

তার কাছ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি ছাত্র বুখারীর দরস লাভ করেছে। তিনি বর্তমানে প্রায় ১৫টি মাদরাসার প্রধান/খণ্ডকালীণ শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করছেন।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশের প্রথিতযশা এ আলেমের কাছে দেশ-বিদেশের অনেক মাদরাসার মোহাদ্দিস ও শায়খুল হাদীসরা পর্যস্ত সনদ প্রাপ্তির লক্ষে কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসায় চলে আসেন। যার ফলে ইতিমধ্যে তার সুনাম সুখ্যাতি ছড়িয়ে গেছে বিশ্বময়। ইলমী মারকাজের জ্ঞানপবন ব্যক্তিরা তার কাছে বরকত হাসিলের উদ্দেশে হাজির হোন।

দেশের খ্যাতনামা শাগরেদ বৃন্দ:
১.শাইখুল হাদিস মাওলানা সুলাইমান ইবনে আলী রহঃ
২.শাইখুল হাদিস মাওলানা রশিদ আহমদ উজানী রহঃ
৩.শাইখুল আদিব শহীদুল্লাহ ফজলুল বারি রহঃ
৪.শাইখুল হাদিস মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী (সাভার)
৫.মাওলানা আব্দুল বার (মোহাদ্দিস ফরিদাবাদ মাদ্রাসা)
৬.আল্লামা মুফতি আবু সাঈদ (ফরিদাবাদ)
৭.মুফতি ইমাদুদ্দীন (ফরিদাবাদ)
৮.শাইখুল হাদিস মাওলানা আবু জাফর (মালিবাগ)
৯.শাইখুল হাদিস মাওলানা ডঃ মুস্তাক আহমদ (ই.ফা)
১০.শাইখুত তাফসীর মাওলানা খুরশিদ আলম কাসেমী।
১১.আল্লামা আবুল ফাতাহ মোহাম্মদ ইয়াহইয়া (রহঃ)
১২.মাওলানা খালেদ ছাইফুল্লাহ আইয়ুবী।
১৩.মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী (চরমোনাই)
১৪.মুফতি আবু সাবের মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (মালিবাগ)
১৫.মুফতি বোরহান উদ্দিন (মালিবাগ)
১৬.শাইখুল হাদিস মাওলানা মতিউর রহমান (ফরিদাবাদ)
১৭.মুফতি মিজানুর রহমান সাইদ।
১৮.শাইখুল হাদিস মুফতি ইয়াহহিয়া মাহমুদ (রামপুরা)

প্রমুখ……..

গ্রন্থাবলী:
(১)দেওয়ানবাগীর গোমর ফাঁস, (২)আহলে সুন্নাত ও আহলে হাদিসের স্বরূপ সন্ধান,(৩)বড়দের ত্যাগ ও কোরবানি,(৪)তাছাউফ সাধনা,(৫)কাসিদা অমুখতায়ে নোমানী।

তথ্য দানকারীর নাম :- ইব্রাহিম খলিল নোমানী । প্রেস সচিব:আল্লামা সোলাইমান নোমানী দা.বা.

ইমেইল: ibrahimkhalilnomani57@gmail.com

তথ্য দানকারীর মোবাইল :- ০১৯৯৪৬৭৮১১৩

Spread the love