সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী দা. বা. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

November 25 2020, 04:34


Manual5 Ad Code

নাম :- যোবায়ের আহমদ

Manual1 Ad Code

বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের মূর্তপ্রতিক শায়খুল হাদীস অধ্যাপক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী হুজুরের সংক্ষিপ্ত জীবনী আমাদের অনুপ্রেরণার সূতিকাগার। তিনি বেফাকের সাবেক মহাপরিচালক। শায়খুল হাদীস, জামেয়া রাহমানিয়া দারুল ইসলাম, ঢাকা। সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমীর, খেলাফত মজলিস।

Manual8 Ad Code

পরিচয়: দারুল উলুম টাইটেল মাদরাসা মৌলভীবাজার এর প্রতিষ্ঠাতা, শায়খে কৌড়িয়া রহ. -এর খলীফা শায়খে ইন্দেশ্বরী র. -এর ঔরষে জন্ম লাভ করেন আজকের যোবায়ের আহমদ ইন্দেশ্বরী।

জন্ম: ১৯৫০ সালে ১ লা ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মাওলানা আবদুন নূর শায়খে ইণ্দেশ্বরী রাহ. একজন প্রখ্যাত বুযুর্গ আলেম ছিলেন। তিনি মৌলভীবাজার দারুল উলুম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম ছিলেন।

শিক্ষা জীবন: মৌলভীবাজার দারুল উলুম মাদরাসায় ১৯৬৬ইং সনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ১৯৬৭ইং সনে ঢাকার প্রাচীনতম মাদরাসা আশরাফুল উলুম বড়কাটারায় এক বছর পড়ালেখা করেন। ১৯৬৮ সালে লালবাগে ভর্তি হন। ১৯৬৯-৭০ সালে গহরপুর মাদরাসায় মুখতাসার ও জালালাঈন সমাপ্ত করেন। ১৯৭১-৭২ সালে মৌলভীবাজার জেলার সুপ্রসিদ্ধ মাদরাসা বরুণায় মেশকাত এবং দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবন: ১৯৭৩ সালে নেত্রকোনার মউ মাদরাসায় হাদীসের দরস প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষক জীবনের শুভসুচনা করেন। ১৯৭৪ সালে মৌলভীবাজারের রায়পুর মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। ১৯৭৫ সালের ১১ই নভেম্বর মৌলভীবাজার ডিগ্রী কলেজে ইসলামিয়াত ও ইসলামিক হিস্ট্রি বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। সেখানে কৃতিত্বের সাথে ১৯৭৮ সালের শেষ পর্যন্ত প্রায় তিন বছর অধ্যাপনা করেন। ১৯৭৯-৮০ সালে সিলেটের খাসদবির দারুস সালাম মাদরাসায় হাদীসের খেদমত আঞ্জাম দেন। ১৯৮১-৮৩ এর মাঝামাঝি জামেয়া লুত্ফিয়া বরুণা মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে দ্বীনী শিক্ষার ধারা অব্যাহত রাখেন।

১৯৮৩ সালের শেষের দিকে যখন জামেয়া শারঈয়া মালিবাগ, ঢাকা দাওরায়ে হাদীস হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে, তখন থেকে ১৯৮৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেখানে দাওরায়ে হাদীসের শিক্ষক এবং পাশাপশি জামেয়ার প্রথম ভাইস প্রিন্সিপাল -এর মহান দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও ১৯৮৩-৮৫’র আগস্ট পর্যন্ত সাবেক কুষ্টিয়া ইউনিভার্সিটির ভাইস চান্সেলরের গাইডেন্স ইসলামিক তাফসির প্রজেক্টের তাফসিরে মাতুরীদী (ইমাম মাতুরীদী)-এর একমাত্র গবেষক হিসেবে কাজ করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত ইসলামী বিশ্বকোষ -এর অনুবাদক ও নিবন্ধকার ছিলেন। এই সময়ে তিনি তারযুমানুস সুন্নাহ দ্বিতীয় খন্ডের অনুবাদ করেন।

বৃটেনে গমন ও সাউদাম্পটন সিটি কাউন্সিলর মনোনীত:
১৯৮৫ সালের ২২শে আগস্ট বৃটেন চলে যান এবং ১৯৮৭সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ২বছর সেখানে অবস্থান করেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি হ্যাম্পশায়ারের সাউদাম্পটন সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশী প্রবাসিদের পক্ষে মনোনীত বিশেষ কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

Manual3 Ad Code

১৯৮৮-৯০ এই তিন বছর মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার জামেয়া হেমায়াতুল ইসলাম গড়গাঁও মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে শিক্ষাদান করেন। ১৯৯০ সালে মৌলভীবাজার জামেয়া দ্বীনিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন এবং প্রায় তিন বছরকাল সেখানে বোখারী ও মুসলিম শরীফের খেদমত আঞ্জাম দেন। ১৯৯৩-৯৫ এই তিন বছর আবার ২য় বারের মত জামেয়া হেমায়াতুল ইসলাম গড়গাঁও মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে অধ্যাপনা করেন। ১৯৯৬ সালে মৌলভীবাজার বর্ষিজোড়ায় হাজিরিয়া মদিনাতুল উলুম মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৭ সাল পর্যন্ত সেখানে প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার মাদরাসার শায়খুল হাদীস হিসেবে খেদমত আঞ্জাম দেন। পাশাপাশি জামেয়া দ্বীনিয়া মৌলভীবাজারেও বুখারি শরিফের দারস দেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার স্বনামধন্য দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামেয়া রাহমানিয়া দারুল ইসলামের শায়খুল হাদীস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৪ সাল মুতাবেক ১৪৩৬ হিজরী হতে বেফাকের (বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড) সহকারী মহাপরিচালক-এর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের ২২শে নভেম্বর থেকে বেফাকের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পদে অধিষ্টিত হন। ২০১৮ সালে ফরিদাবাদে অনুষ্ঠিত বেফাকের কাউন্সিল থেকে অদ্যাবধি বেফাকের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রবৃন্দ: বেফাকের যুগ্ম মহাসচিব (সাবেক) মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রাহ. মাওলানা ইসহাক ফরিদী রাহ. আহকামে জিন্দেগিসহ বহু গ্রন্থ প্রণেতা মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন, বারিধারার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা নাজমুল হাসান, মালিবাগের শায়খুল হাদীস আল্লামা আবু সাবের আবদুল্লাহ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মুশতাক আহমদ প্রমুখ।

Manual3 Ad Code

রাজনৈতিক জীবন: আজন্ম সংগ্রামী জীবনের অধিকারী সব সময় বাতিলের বিরুদ্ধে সোচ্ছার ছিলেন। বাংলাদেশের ইসলামী রাজনীতির পরতে পরতে মিশে আছেন অধ্যাপক যোবায়ের আহমদ চৌধুরী। ১৯৮৯ সানে খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবত খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীরের দায়িত্বপালন করেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ১৯৯৬ সনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার-রাজনগর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। খেলাফত কায়েমের সংগ্রামী স্বপ্ন বুকে ধারন করে আজো এ মহামনিষী বেঁচে আছেন। খেলাফতের স্বপ্নচারী বিপ্লবী এ আলেমে দ্বীনের নেতৃত্বে একদিন বাংলার সবুজ চত্বরে খেলাফত কায়েম হবে। ইনশা আল্লাহ।

তথ্য দানকারীর নাম :- মুফতি ওযায়ের আমীন, মুহতামিম, জামেয়া রহমানিয়া দারুল ইসলাম ঢাকা।

Spread the love