সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

মাওলানা মাহমুদুর রহমান তালবাড়ীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

June 16 2020, 16:24

Manual4 Ad Code

আল্লাহপাক রাব্বুল আ-লামীন পৃথিবীতে এমনও অনেক মানুষ সৃষ্টি করেছেন যারা আপন যোগ্যতা ও বিচক্ষণতায় অনন্য। আপন নীতি ও বিশ্বাসের ওপর যারা সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় দৃঢ় ও অবচিল। কুরআন ও সুন্নাহনির্ভর যাদের পথচলা। পা থেকে মাথা পর্যন্ত যারা সুন্নতের রঙ্গে রঙ্গীন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সত্য ও ন্যায়ের পথে নিজের জীবন বিলীন করে দিচ্ছেন সেই মহারত্মদের একজন হলেন উস্তাদে মুহতারাম জামেয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদ পুর মাদ্রাসার শায়খে ছানী শ্রদ্ধেয় চাচাজান হযরতুল আল্লাম হযরত মাওলানা মাহমুদুর রহমান সাহেব তালবাড়ী।

জন্ম : হযরত মাওলানা মাহমুদুর রাহমান চৌধুরী সাহেব ১৯৬০ সালের ১ জানুয়ারি ঐতিহ্যবাহী কানাইঘাট থানার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব তালবাড়ী গ্রামে এক দ্বীনদার ফ্যামিলিতে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা: মরহুম বরকত উল্লাহ চৌধুরী সাহেব যিনি ইলমি অঙ্গনের পরিচিত মুখ। হাজার হাজার শায়খুল হাদীস গড়ার সফল কারিগর الهدية المرضية এর মুছান্নিফ মুফতি রহমতুল্লাহ রহ. এর ভাই।

মাতা: ছফিনা বেগম চৌধুরী। শিক্ষা: মৌলিক শিক্ষা নিজ মাতা পিতার কাছ থেকে অর্জন করে একাডেমিক শিক্ষা অর্জন করার জন্য তালবাড়ী বীরদল নেছারিয়া ফয়জে আম মাদ্রাসায় ভর্তি হোন, সেখানে মুতা. ৩য় পর্যন্ত লেখা পড়া করেন। ১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত মুফতি রহমতুল্লাহ রহ. জামেয়া এমদাদিয়া কিশোরগঞ্জে শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কিশোরগঞ্জ ছেড়ে মুফতি রহমতুল্লাহ সাহেব বাড়িতে চলে আসলে মুফতি রহমতুল্লাহ সাহেবের কাছে আজিজুল মুবতাদী শিক্ষা অর্জন করেন।

১৩৯৪ হিজরীর শাওয়াল মাসে জামেয়া কাসিমুল উলূম দরগাহ মাদ্রাসায় মুতা. ৪র্থ বর্ষে ভর্তি হোন। তখন মুফতি রহমতুল্লাহ সাহেব দরগাহ মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস ও শিক্ষাসচিব ছিলেন এবং হযরতের তা’লীমী মুরব্বি ছিলেন। লেখা পড়ায় তিনি খুব মনোযোগী ও অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন, যার কারণে প্রতিটি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হতেন। দরগাহ মাদ্রাসায় তখনকার সময়ে অনেকবার বোর্ডিংয়ে টানাপোড়ন দেখা দেয়। যার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার সরবরাহ করা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।

ছাত্ররা অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করতেন। তখন তিনি সেই কষ্টকে ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্জনের জন্য আনন্দ চিত্তে মেনে নিয়েছিলেন যার কারণে আজ বাংলাদেশের বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধন্য শায়খুল হাদীস। ১৪০১ হিজরী সনে মুফতি রহমতুল্লাহ সাহেব-সহ কয়েকজন শিক্ষক জামেয়া ইসলামিয়া রাজাগঞ্জ চলে আসলে হযরতও তাদের সাথে রাজাগঞ্জ মাদ্রাসায় চলে আসেন এবং দাওরায়ে হাদীসে ভর্তি হয়ে জামেয়া হুসাইনিয়া গহরপুরের অধীনে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবীয়া বোর্ডের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হোন। শিক্ষকতা: ১৪০১ হিজরী সনে লেখা পড়ার সর্বোচ্চ ক্লাস দাওরায়ে হাদীস সমাপন করে ১৪০১ হিজরীর শেষের দিকে দারুল উলূম দেউলগ্রাম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত হোন। দীর্ঘ ১৯ বৎসর সেখানে বিভিন্ন ফুনুনাতের কিতাবাদী অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষা দেন।

Manual2 Ad Code

১৪১৭ হিজরীতে তার কর্মদক্ষতা ও কর্মতৎপরতা দেখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষা সচিবের দায়িত্ব অর্পণ করেন। ১৪২০ হিজরী পর্যন্ত মোট তিনটি বৎসর অত্যন্ত পরিশ্রম করে শিক্ষাসচিবের দায়িত্ব আঞ্জাম দেন, যার মেহনতের ফলে মাদ্রাসার লেখাপড়ার মান আরো উন্নত হয়। ১৪২০ হিজরী ২০০০ সালে তিনি সেচ্ছায় দেউলগ্রাম মাদ্রাসা থেকে বিদায় নিয়ে আসেন এবং পরবর্তী সময়ে যোগ দেন বাংলাদেশের সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর। ২০০০ সাল থেকে অদ্যাবধি জামেয়া মাদানিয়া আঙ্গুর মুহাম্মদপুরে হাদীসের খেদমত করে আসছেন।

Manual1 Ad Code

১৪২৭ হিজরী সনে বীরদল মজুমদারমাটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ক্বারী রফিকুদ্দীন রহ. পরপারে পাড়ি জমালে তিনাকে মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চাপালে নিরুপায় হয়ে তা গ্রহণ করেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মাদ্রাসা দিন দিন উন্নতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এলাকাবাসীর দিল মাদ্রাসামুখি হচ্ছে। তাঁর পরিশ্রমে আজ মাদ্রাসা বিরাট এক এরিয়ার মালিক হয়েছে। তিনতলা একটি ভবন ও চোখধাঁধানো একটি মসজিদ নির্মিত হয়েছে মাদ্রাসার আঙ্গিনায়।

বিবাহ: কানাইঘাট থানার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের বীরদল আগকুপা গ্রামের মাস্টার আজির উদ্দীন সাহেবের মেয়ে মোছা: খাদিজা বেগমের সাথে দাম্পত্য জীবনের সূচনা করেন। বর্তমানে তাদের এই দাম্পত্য জীবনে চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে নিয়ে সাংসারিক জীবন যাপন করছেন। আধ্যাত্মিকতা: প্রথমে কারী তায়্যিব রহ. এর কাছে বয়াত গ্রহণ করেন। হযরতের ইন্তেকালের পর আসআদ মাদানী রহ. সিলেট সফর কালে তার হাতে বয়াত গ্রহণ করেন এবং ১৪১৭ হিজরী মুতাবিক ১৯৯৭ ঈসায়ীতে হযরত আসআদ মাদানী রহ. ঢাকার চৌধুরী পাড়া মাদ্রাসায় এতেকাফ করলে তিনি পূর্ণ রমজান মাস মাদানী রহ. এর সুহবতে কাটান এবং ১৯৯৮ ইংরেজী সনে মাদানী রহ. এর নির্দেশে রমজান মাসে দেওবন্দ সফর করেন এবং পূর্ণ রমজান মাস সেখানে অতিবাহিত করেন।

Manual7 Ad Code

পরের বছর ওয়ালিদা মুহতারামার অসুস্থতার কারণে দেওবন্দ সফর করতে পারেন নি। এমন সময় ফেদায়ে মিল্লাত রহ. এর ইন্তেকালের খবর পেয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। নতুন মুর্শিদের সন্ধান খুঁজতে থাকেন এবং ১৪২৭ হিজরী রমজান মাসে শাহবাগ কচুয়া মসজিদে হযরত মাওলানা মুকাদ্দাস আলী সাহেবের কাছে বয়াত গ্রহণ করেন এবং ১৪২৯ হিজরী রমজান মাসে মুন্সীবাজার খানকায় তিনি ইজাজত প্রাপ্ত হন।

Manual8 Ad Code

লিখেছেন: জাহিদ বিন নাসির

Spread the love