সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

মাওলানা বশির উদ্দিন

September 01 2026, 05:58

নাম :- মাওলানা বশির উদ্দিন

জন্ম তারিখ / জন্মস্থান :- ২২ ফেব্রয়ারি ১৯৫৩

শৈশব কাল :- মানুষ মরণশীল। বিধির এ বিধান চিরকাল বলবৎ থাকবে। কিছু মানুষ ধরায় আসে আবার সাদাসিদে ভাবে চলে যায়। আবার কিছু মানুষ রয়েছে; যার আগমন যেথায় সেথায় কিন্তু তাঁর বিয়োগ জগৎ বাসীর চোখের জল ফেলার কারন হয়ে দাড়ায়। আবেগে হৃদয় গহীন থেকে মহান রবের কাছে মঙ্গলের দোয়া আসে। নিজের সন্তানকে তাঁর মত করে গড়ে তোলার শপথ করে। জগৎ বিখ্যাত এমন ব্যক্তির জন্য মায়া হয়। দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়াতে কষ্ট অনুভব হয়। এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব হলেন মাওলানা বশির উদ্দিন (রহ.)। তাঁর বিয়োগে যে শুন্য পদ সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

জন্ম ও বাল্যকাল: সাব্যস্থ সুত্রে জানা যায় হযরত মাওলানা বশির উদ্দিন (রহ.) ১৯৫৩ খৃষ্টাব্দের ২২ শে ফেব্রুয়ারী গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর ৩য় খন্ড (বানিগ্রামে) জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাজী রহমত উল্লাহ ও মাতার নাম মরহুমা নসিবা খাতুন। পিতা মাতার আদরের সন্তান মাওলানা বশির উদ্দিন (রহ.) ছোটকাল থেকেই অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শিষ্টাচারী ছিলেন। অযথা ঘোরাফেরা, অকারনে সময় ব্যয় করা, এবং দুষ্ট ছেলেদের সাথে মেলা-মেশা করা তাঁর মেজায পরিপন্থি ছিল। বানিগ্রাম মক্তবে তাঁর বাল্য শিক্ষা শুরু হয়। মক্তবে পবিত্র কোরআন পাঠ ও জরুরী মাসাঈল শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর বাল্যশিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।

শিক্ষা জীবন :- প্রাথমিক শিক্ষা: বাল্যশিক্ষা শেষ করার পর তাঁর পিতা হাজী রহমত উল্লাহ সাহেব তাকে প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে জামেয়া ইসলামিয়া এশায়াতুল উলুম ফতেপুর মাদরাসায় ভর্তি করে দেন। তাঁর মাধ্যমিক মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি সেখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

মাধ্যমিক শিক্ষা: জামেয়া ইসলামিয়া এশায়াতুল উলুম ফতেপুর মাদরাসা থেকে সুষ্ঠুভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর তিনি মাধ্যমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে অনুমানিক ১৯৬৪ ইংরেজি সনে হেমু মাদরাসায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে সুষ্ঠু ভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন।

উচ্চশিক্ষা: হেমু মাদরাসা থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি সিলেটের প্রাচিনতম বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী ঢাকাউত্তর রানাপিং মাদরাসায় উচ্চশিক্ষা অর্জনের নিমিত্তে গমন করেন এবং সেখান থেকে হাদিস, উসূলে হাদিস, ফিকহ, উসূলে ফিকহ, তাফসির ও উসূলুত তাফসির বিষয়ক উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন; হযরত মাওলানা তাহির আহমেদ তহিপুরী (রহ.), হযরত মাওলানা রিয়াছত আলী চৌঘরী। ঘরী (রহ.), হযরত মাওলানা জমশেদ আলী চেয়ারম্যান সাব হুজুর (রহ.) সহ তৎকালীন বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামগণ।

কর্ম জীবন :- কর্মজীবন: হযরত মাওলানা বশির উদ্দিন (রহ.) কর্মজীবনে একজন সফল ব্যক্তি। তিনি ঢাকা উত্তর রানাপিং মাদ্রাসা থেকে \”তাকমীল ফিল হাদিস\” সমাপ্ত করে বহুমুখী কর্ম ব্যস্ততায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অবশেষে ১৯৭৮ইং সনে জামেয়া ইসলামিয়া এশায়াতুল উলুম ফতেপুর মাদরাসায় শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত হন এবং দুই বছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সেখানে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যান। ১৯৮০ইং সনে বিভিন্ন ব্যস্ততার ধরুন মাদরাসা থেকে বিদায় গ্রহণ করেন। কিন্তু তখন উজান ফতেপুরের মুরব্বীদের অনুরোধে উজান ফতেপুর মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পুনরায় ১৯৮৩ইং সনে ফতেপুর মাদরাসার কমিটির অনুরোধে মাদরাসার এহতেমামের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত অত্যন্ত সুষ্ঠু ও নীতি নৈতিকতাঁর সাথে সেই গুরুদায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে এহতেমামের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করলেও আমৃত্যু ফতেপুর মাদরাসার শিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। ফতেপুর মাদ্রাসার মুহতামিম থাকাবস্থায় দীর্ঘদিন তিনি ফতেপুর পূর্বতিন মৌজা জামে মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০৬ ইং সনে ফতেপুর মাদরাসার মুহতামিম থকাকালীন পবিত্র ওমরাহ পালন করেন।

অবদান :- তাসাউফ: হযরত মাওলানা বশির উদ্দিন (রহ.) অত্যন্ত খোদা ভীরু পরহেযগার ও মুত্তাকী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি আজীবন প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান রহ.\’র মুরিদ ছিলেন।

পারিবারিক জীবন: পারিবারিক জীবনে তাঁর একমাত্র সহধর্মিণী ছিলেন নাজমা বেগম চৌধুরী। পারিবারিক জীবনে ছিলেন তিনি বর্ণনাতীত সুখী। সেই সুখী পরিবারে তিনি ছিলেন চারছেলে ও তিন মেয়ে সন্তানের জনক। চারছেলে সন্তান হলেন; ১. মাওলানা নুমান আহমেদ (ওমান প্রবাসী) ২. মাওলানা সালমান হুসাইন (ব্যবসায়ী) ৩. হাফিজ রুম্মান আহমদ ও ৪. যুম্মান হুসাইন (ফ্রান্স প্রবাসী)।

মৃত্যু তারিখ :- ইন্তেকাল: ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে হযরত মাওলানা বশির উদ্দিন (রহ.) শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তখন তাকে ইবনেসিনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তথায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১০ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর সোমবার তিনি আপন মাাওলার সাক্ষাতে মিলিত হন। সহস্রাধিক লোকারণ্যে ফতেপুর মাদরাসা মাঠে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাযের ইমামতি করেন তাঁর মুরশিদ পিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান সাহেব রহ.। জানাযার পর বানিগ্রাম কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তথ্যসুত্রঃ আখলাক হুসাইন রচিত \”আকাবিরে গোয়াইনঘাট\” পৃষ্ঠা- ৮৩, ৮৪ ও ৮৫।

 

তথ্য দানকারীর নাম :- সাহেল আহমদ

তথ্য দানকারীর মোবাইল :- ০১৭২১২৪০৯৩৮

Spread the love