সারাদেশের মাদ্রাসাসমূহ (বিভাগ ভিত্তিক)

ঈদুল আযহা ও কুরবানীর তাৎপর্য

জুলাই ২৬ ২০২০, ০৯:২৪

লিখেছেন- আবু তাইয়িব রুম্মান

প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আমাদের সামনে ঈদুল আযহা উপস্থিত, ঈদুল আযহা মুসলমানদের অন্যতম উৎসবের দিন, এইদিন ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সকলে ঈদগাহে সমবেত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ পরে ছোট-বড় সবাই একে অন্যের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করেন । সামর্থ্যবানরা আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের জন্য শরীয়ত নির্দেশিত পন্থায় তাদের কুরবানীর পশু আল্লাহর নামে উৎসর্গ করেন, এবং আল্লাহ তা’আলার আরও নৈকট্য লাভের আশায় কুরবানীর পশুর এই গোশতগুলো আত্মীয় স্বজন, তিবেশী এবং যাদের সামর্থ্য না থাকার কারণে কুরবানী দিতে পারেন নাই তাদের মাঝে বন্টন করেন। শুধুমাত্র নিজের জন্যই রেখে দেন না। এটাই হলো ইসলামের সৌন্দর্য, এটাই হলো ইসলাম।

ইসলাম আমাদেরকে এই শিক্ষাই দেয় যে, তুমি শুধু একার নয় বরং সবাইকে নিয়েই তুমি, তুমিতে পরিপূর্ণ হতে হবে।

কুরবানীর বিধান : যুগে যুগে সব শরীয়তেই বিদ্যমান ছিলো কুরবানীর বিধান। মানব সভ্যতার দীর্ঘ ইতিহাসে প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবীর সব জাতিই কোন না কোনা ভাবে আল্লাহ তা’আলার দরবারে তার প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করতেন, সবার উদ্দেশ্য একটাই ছিলো, আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। তবে আমরা যে কুরবানী করে থাকি, তা হলো হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সুন্নাহ । বস্তুতঃ হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সন্তান কুরবানী দেওয়ার এ অবিস্মরণীয় ঘটনাকে প্রাণবন্ত করে রাখার জন্য উম্মতে মুহাম্মাদির উপর এ বিধান চালু করা হয়েছে ।

আমাদের শরীয়তের কুরবানী এবং পূর্বেকার যুগের শরীয়তের কুরবানীর মধ্যে একটা পার্থক্য হচ্ছে,তা হলো, পূর্বেকার যুগের শরীয়তে যে কোন বস্তু দ্বারাই কুরবানী করা বৈধ ছিল, কিন্তু আমাদের শরীয়তে শুধুমাত্র গবাদিপশুর মাধ্যমেই কুরবানী করতে হবে এবং এর মাধ্যমেই আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। ” আল্লাহ তা’আলা কালামে হাকিমে ইরশাদ করেন ” ★ আর আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই কুরবানীর নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে করে তাদেরকে উপজিবীকা স্বরূপ যে সব চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি সেগুলোর উপর আল্লাহ পাকের নাম উচ্চারণ করে। বস্তুতঃ তোমাদের মা’বুদ এক আল্লাহ পাকই ।

অতএব, তোমরা শুধু তারই নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পণ কর এবং যারা বিনয়াবনত, তাদেরকে সুসংবাদ দান কর। ★ আল্লাহ পাকের নাম স্বরণ করা হলে যাদের অন্তর ভীত সন্ত্রস্থ হয় এবং তাদের উপর কোন বিপদ আপদ হলে তারা সবর অবলম্বন করে এবং তারা নামাজ কায়েম করে এবং তাদেরকে যে রিজিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে । ” সূরা হাজ্বঃ ৩৪-৩৫ ” ” হাদীস শরীফে এসেছে ” ★হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে রাসূলে আকরাম (সাঃ) ইরশাদ করেছেনঃ কুরবানীর ঈদের দিন কুরবানীর পশুর রক্ত প্রবাহিত করা অপেক্ষা আল্লাহ তা’আলার নিকট অধিক পছন্দনীয় আর কোন আমল নেই, এবং নিঃসন্দেহে কুরবানী দাতা কেয়ামতের দিন তার কুরবানীর পশুর শিং, পশম এবং খুর সাথে নিয়ে আসবে।

আর তিনি এ কথা ও ইরশাদ করেছেন যে, কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তা আল্লাহ তা’আলার দরবারে কবুল হয়ে যায়। অতএব তোমরা খুব খুশী মনে কুরবানী কর । “মিশকাত শরীফ” ★হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) মদীনায় দশ বৎসর অবস্থান করেছেন এবং বহুবার (প্রতি বৎসর) কুরবানী করেছেন। “তিরমিযী শরীফ” ★যায়িদ ইবনে আরকাম (রাঃ) হইতে বর্ণিত । তিনি বলেন, একবার সাহাবায়ে কিরামগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এই কুরবানী কি ? তিনি বললেন : ইহা তোমাদের পিতৃপুরুষ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর সুন্নাহ। অতঃপর সাহাবায়ে কিরামগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইহাতে আমাদের কি সাওয়াব হবে? তিনি বললেন, প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি নেকী হবে ।

আবার জিজ্ঞাসা করা হল, পশমের বিনিময়েও কি সাওয়ার হবে ? তিনি বললেন, প্রত্যেক পশমের বিনিময়েও সাওয়াব হবে । ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ ইবনে মাজাহ (রাহঃ) তাহার সুনান গ্রন্থেও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন । ★ জাবালা ইবনে সুহাইম (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি ইবনে উমর (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, কুরবানী করা কি ওয়াজিব? তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এবং সকল মুসলমানগণ কুরবানী করেছেন। ঐ ব্যক্তি দ্বিতীয়বার একই প্রশ্ন করলে ইবনে উমর (রাঃ) বললেন, তোমার কি বুদ্ধি আছে? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সকল মুসলমানগণ কুরবানী করেছেন। হযরত ইবনে উমর (রাঃ) এর উদ্দেশ্য ছিলো, তোমাদের এ গবেষণায় পড়ে থাকা ঠিক নয় যে, পরিভাষায় কুরবানী করা ওয়াজিব, সুন্নাহ না কি ফরয ? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং সকল মুসলমানগণ কুরবানী করেছেন। অতএব তোমাদেরও এটি করা উচিৎ ।

কুরবানীর গুরুত্ব

কুরবানী করার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা। এই জন্যই প্রাণী জবাই করার বিধান প্রবর্তিত হয়েছে। এই বিধানকে অমান্য করে কেউ যদি কুরবানীর মূল্য দান করে দেয় অথবা তার পরিবর্তে খাদ্য-শষ্য, কাপড় ইত্যাদি গরীবকে দান করে দেয় তবে তার দ্বারা আল্লাহ পাকের এই বিধান পালন করা হবে না; বরং কুরবানী না করার দরুণ গুণাহগার হবে এবং প্রতিটি পশমের বিনিময়ে যে সওয়াব লাভে ধন্য হতো, তা থেকে বঞ্চিত হবে।

★একটি হাদীসে ইরশাদ হয়েছেঃ যে ব্যক্তি সঙ্গতি থাকা সত্বেও কুরবানী করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে। এই হাদীস থেকেও কুরবানী করার অনেক তাকিদ প্রমাণিত হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেহেতু নিয়মিত কুরবানী করতেন এবং এই আমলের জন্যে তাকিদ করেছেন সে জন্য হযরত ইমাম আবু হানিফা (রাহঃ) সঙ্গতি,বিত্তবান ও নেসাব সম্পন্ন লোকদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব বলেছেন।

★সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) বলেন, আবু হাযিম (রাহঃ) ঋণ গ্রহন করিয়া বাইতুল্লাহ শরীফে কুরবানীর পশু প্রেরণ করতেন । তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, আপনি ঋণ গ্রহণ করে কুরবানীর পশু প্রেরণ করেন ? তিনি বললেন, আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন “তোমাদের জন্য ইহাতে কল্যাণ রয়েছে”।

★হযরত ইবনে আব্বাস (রা) হইতে বর্ণিত ।তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, কুরবানীর ঈদে কুরবানী করায় যেই রৌপ্যমুদ্রা তুমি খরচ করেছ, উহা অপেক্ষা উত্তম কোন কাজে ইহা তুমি খরচ কর নাই। ইমাম দারে কুতনী (রাহঃ) তাঁর সুনান গ্রন্থে ইহা বর্ণনা করেছেন ।

কার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব

মুসলমান, স্বাধীন, সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক, মুকীম ব্যক্তি যার কাছে (ঈদের দিবসগুলোতে) সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা তার মূল্যের সমান টাকা বা এই মূল্যের সমপরিমাণ ব্যবসায়িক পন্য অথবা এই মূল্যের সমান অতিরিক্ত আসবাব পত্র থেকে থাকে, তাহলে তার উপর কুরবানী এবং ফেতরা ওয়াজিব। অনেকে মনে করেন যার উপর যাকাত ফরজ হয়নি তার উপর কুরবানী ও ওয়াজিব হবে না। কিন্তু কথাটি সঠিক নয়, কারণ এমন লোকও আছেন যাদের উপর সোনা-রূপা, ব্যবসায়িক পন্য অথবা নগদ অর্থ নেসাব পরিমাণ না থাকায় যাকাত ফরজ হয় নাই অথচ অতিরিক্ত আসবাব পত্র সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের পরিমাণ থাকার দরুণ কুরবানী ওয়াজিব হয়ে পড়ে । কিন্তু এসব ব্যবহৃত অতিরিক্ত আসবাব পত্রের দরুণ যাকাতও ফরজ হয় না।

যাকাত এবং কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে আরেকটি পার্থক্য আছে। নেসাব পরিমাণ টাকা চন্দ্র মাসের হিসাবে বারো মাস অতিবাহিত হওয়ার পর যাকাত ফরজ হয়ে থাকে। কিন্তু কুরবানীর জন্য নেসাব পরিমান টাকা কুরবানীর দিবসগুলোর আগের চব্বিশ ঘন্টাও সঞ্চিত থাকা জরুরী নয়। জিলহজ্জ মাসের নয় থেকে বারো (9-12)তারিখের মধ্যে যদি এই পরিমাণ সম্পদ কারো হস্তগত হয়,যে পরিমাণ দ্বারা কুরবানী ওয়াজিব হয়, তবে তার উপর পরদিন কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। বলা বাহুল্য যে, নেসাব পরিমাণ অর্থ হস্তগত হলেই কুরবানী ওয়াজিব হয়ে থাকে।

প্রত্যেকের মালিকানা পৃথক পৃথক দেখতে হবে। অর্থাৎ যদি কোন পরিবারে পিতা, পুত্র এবং পুত্রের মায়ের মালিকানায় এই পরিমাণ অর্থ থাকে, যে পরিমাণের দ্বারা নেসাব পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে প্রত্যেকের জন্য পৃথক পৃথক কুরবানী করতে হবে। অবশ্য নাবালেগের পক্ষ থেকে কোন অবস্থাতেই কুরবানী ওয়াজেব হবে না। সাধারণতঃ মহিলদের নিকট যে পরিমাণ গহনা থাকে তাতে কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যায় ।

কুরবানীর উদ্দেশ্য 

” আল্লাহ তা’আলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন ”

★এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু তাঁর (আল্লাহর) কাছে পৌঁছে তোমাদের মনের তাকওয়া । এ আয়াতে কুরবানীর প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য বর্ণিত হয়েছে। কুরবানীর উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভ, আল্লাহ পাকের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা, তাঁর অনুগত হওয়া। যেমন হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-কে আল্লাহ পাক স্বপ্নযোগে এই আদেশ দিয়েছেন, তোমার প্রাণাধিক প্রিয় পূত্র ইসমাইলকে জবেহ কর। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে আল্লাহ পাকের আদেশ সম্পর্কে জ্ঞাত করলেন। কিশোর ইসমাঈল (আঃ) আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরবান হতে অকুন্ঠ চিত্তে সম্মতি দিলেন। পবিত্র কুরআনে কারীমে রয়েছে এই ঘটনার বিবরণ। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন ।

★( হযরত ইব্রাহীম (আঃ) হযরত ইসমাঈল (আঃ) লক্ষ্য করে বললেন ) হে আমার প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবাই করছি; অতএব, এ সম্পর্কে তোমার অভিমত ব্যক্ত কর।

★( ইসমাঈল (আঃ)-এর জবাবে বললেন ) তিনি বললেন, হে আমার পিতা! আপনার প্রতি যে আদেশ হয়েছে তা আপনি পালন করুন, “ইনশা আল্লাহ” আপনি আমাকে ধৈর্য ধারণকারীদের অন্তর্ভূক্ত পাবেন। এরপর হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে তাঁর সান্নিধ্য ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে প্রিয় পুত্র ইসমাঈল (আঃ) কে জবাই করতে উদ্যত হলেন। পবিত্র কুরআনে কারীমে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর এ ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করে বিশ্ব মুসলিমকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করার আহবান জানানো হয়েছে। তাই আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের জন্যে প্রয়োজন হলে নিজের সর্বস্ব পর্যন্ত কুরবান করার বাস্তব শিক্ষা রয়েছে এই ঘটনায় । পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ

★ এরপর ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ) আল্লাহ পাকের মহান দরবারে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করলেন। আল্লাহ পাক ইব্রাহীম (আঃ) কে ডাক দিয়ে বললেন, হে ইব্রাহীম! তুমি অবশ্যই তোমার স্বপ্নের সত্যতা প্রমাণ করেছ, নিশ্চয় আমি এভাবেই নেককার লোকদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি । বস্তুতঃ হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহ পাকের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের যে অনুপম আদর্শ স্থাপন করেছেন, তা যেমন অতুলনীয়, ঠিক তেমনিতাবে চির অনুসরণীয়। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সেই কুরবানির অনুসরণে বিশ্ব মুসলিমকে প্রত্যেক বছর দশই জিলহজ্জ আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কুরবানী দিতে হয়। বিগত প্রায় সোয়া পাঁচ হাজার বছর ধরে এই বিধানের উপর আমল করা হচ্ছে এবং “ইনশা আল্লাহ” কেয়ামত পর্যন্ত হতে থাকবে । অতএব, কুরবানীর জন্তু কতবড় বা কত দামি এসব বড় কথা নয়; বরং বড় কথা হল, কি উদ্দেশ্যে কি জন্যে কুরবানী করা হয়েছে । এজন্যই আল্লাহ পাক আলোচ্য আয়াতে দুনিয়ার মানুষদেরকে একটি ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছেন তা হলো, তাকওয়া এবং পরহেজগারিতাই হলো আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভের একমাত্র পন্থা ।

” কালামে হাকিমে ইরশাদ হচ্ছে ” ★ এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহ তা’আলার কাছে পৌঁছে না, কিন্তু আল্লাহ তা’আলার কাছে পৌঁছে তোমাদের মনের তাকওয়া। “একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন ” ★আল্লাহ তা’আলা না তোমাদের আকৃতির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, না তোমাদের সম্পদের প্রতি তাকান কিন্তু তিনি তোমাদের অন্তর ও আমল সমূহের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। ” অন্য একটি হাদীসে বর্ণিত আছে ” ★ সদকাহ কৃত জিনিস সদকাহ গ্রহণ করনেওয়ালার নিকট পৌঁছানোর পূর্বেই তা আল্লাহ তা’আলার নিকট পৌঁছে যায়। অনুরূপভাবে কুরবানীর পশুর রক্ত জমিনে পড়ার পূর্বেই উহা আল্লাহ তা’আলার নিকট কবুল হয়ে যায়।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা 

১. কুরবানী কতদিন করা যাবে?

কুরবানী করার সময় হলো জিলহজ্জ মাসের দশ তারিখ থেকে নিয়ে বারো তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত । এই তিন দিনের যেকোন দিন কুরবানী করা জায়েয । তবে উত্তম পন্থা হলো জিলহজ্জের দশ তারিখ কুরবানী করা । ২. কুরবানীর পশুর বয়স কত হতে হবে?

1. গরু,মহিষ এইসব পশুর বয়স কমপক্ষে দুই (2) বছর পূর্ণ হতে হবে। 2. ছাগল, বেড়া, দুম্বা এইসব পশুর বয়স কমপক্ষে এক (1) বছর পূর্ণ হতে হবে। 3. উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ (5) বছর পূর্ণ হতে হবে। ৩. কুরবানীর পশুর মধ্যে কি কি ত্রুটি থাকলে তা কুরবানী দেওয়া জায়েয হবে না?

যেহেতু কুরবানীর জন্তুটি আল্লাহ তা’আলার মহান দরবারে পেশ করা হয়ে থাকে,এ জন্য এটি উৎকৃষ্ট ধরণের অর্থাৎ মোটা-তাজা, সুস্থ-সবল এবং সকল প্রকার দোষ থেকে মুক্ত হতে হবে। ★ হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন,যেন আমরা কুরবানীর পশুর চোখ এবং কান ভালভাবে পরীক্ষা করে নেই এবং এমন জন্তু কুরবানী না করি যার কানে ছিদ্র আছে। “তিরমিজি শরীফ” ★হযরত বারা ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, হজুরে পাক (সাঃ) এর দরবারে আরজ করা হলো কুরবানীর ব্যাপারে,কি ধরণের পশু কুরবানী করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি ইঙ্গিতে ইরশাদ করলেন যে,(বিশেষ ভাবে) চার ধরণের পশু কুরবানী করা থেকে বিরত থাক । (1) এরূপ খোঁড়া পশু যার খোঁড়ামি প্রকাশ পায় । (2) এরূপ অন্ধ পশু যার অন্ধত্ব প্রকাশিত । (3) এরূপ রুগ্ন পশু যার রোগ প্রকাশ পেয়েছে। (4) এরূপ কৃশ এবং পাতলা পশু যার হাড়ে একটি আবরণ ছাড়া আর কিছুই নেই । ৪. কুরবানীর পশুর গোশত বা চামড়া কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে?

কুরবানীর পশুর গোশত বা চামড়া কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয হবে না । ৫. কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করার পর, চমড়ার মূল্য কি কুরবানী দাতা নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে?

না, কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করে দিলে সেই চামড়ার মূল্য কুরবানী দাতা নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। চামড়ার মূল্য সাদাকাহ করে দেওয়া ওয়াজিব।

 

Spread the love