সারাদেশের মাদ্রাসাসমূহ (বিভাগ ভিত্তিক)

আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভুইয়া রহ.

মার্চ ২৫ ২০১৯, ০৫:২৫

নাম :- আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভুইয়া রহ.

জন্ম / জন্মস্থান :- ভারতের আসাম প্রদেশের হাইলাকান্দী জেলা শহরের রাঙ্গাউট মহল্লায় ১৯৩১খৃষ্টাব্দের ২৬জুন,শুক্রবার তিনি জন্মগ্রহণ করেন

শৈশব কাল :- তাঁর পিতা মাওলানা আবদুল আজীম বড়ভুইয়া রহ. একজন বিদগ্ধ আলেম ছিলেন।মাতা মরহুমা সায়রাবান বিবিও অত্যন্ত পরহেযগার নারী ছিলেন।পারিবারিক দ্বীনদারী পরিবেশেই বালক তৈয়ীবুর রহমানের বেড়ে ওঠা।

শিক্ষা জীবন :- ২০ নং রাঙ্গাউটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠশালা পরীক্ষায় বৃত্তিলাভ করে ঐতিহ্যবাহী হাইলাকান্দী সিনিয়র মাদরাসায় ভর্তি হন।১৯৫৩ সালে আসাম মাদরাসা ইন্টারমেডিয়েট এবং ১৯৫৫ সালে আসাম মাদরাসা ফাইনাল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন।হাদীস শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য তিনি আসামের ঐতিহ্যবাহী আল জামেয়াতুল আরাবিয়া দেওরাইল টাইটেল মাদরাসা খ্যাত বদরপুর মাদরাসায় ভর্তি হন।তাঁর হাদীসের উস্তাদ ছিলেন শায়খুল হাদীস ও শায়খে তরীকত আল্লামা আবদুল জলীল চৌধুরী বদরপুরী রহ.১৯৫৭ সালে আসাম মাদরাসা টাইটেল ফাইন্যাল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন।অপরদিকে তিনি প্রাইভেট পরীক্ষা দিয়ে মেট্রিক,আই,এ এবং বিএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।১৯৭১ সালে তিনি গোওয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবী বিষয়ে এমএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক স্বর্ণপদক লাভ করেন।তিনি আসাম রাষ্টভাষা প্রচার সমিতি গুয়াহাটির অধীনে প্রথমা, প্রবেশিকা ও প্রবোধ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন এবং রাষ্ট্রভাষা বিশারদ পরীক্ষায় ও উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৫৫ সালে রৌপ্যপদক লাভ করেন।
আধ্যাত্নিক দীক্ষা:
তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আধ্যাত্নিক দিক্ষা লাভের জন্য প্রথমে শায়খুল ইসলাম আল্লামা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.\’র হাতে বায়আত হন।মাদানী রহ.\’র কাছে জিকরে ক্বালবী পর্যন্ত সবক চলাকালে ১৯৫৭ সালে হযরত মাদানীর ইন্তেকাল হয়ে যায়।তখন মাদানী রহ.\’র আসামের অধিকাংশ মুরীদান তাঁরই প্রিয় ছাত্র ও খলিফা মুজাদ্দিদে যমান হযরত মাওলানা আবদুল জলীল চৌধুরী শায়খে বদরপুরী রহ.\’র কাছে বায়আত হয়ে অনেকেই ইজাযত লাভ করেন।আল্লামা তৈয়ীবুর রহমান বড়ভুইয়া রহ. ও হযরত বদরপুরীর হাতে বায়আত হয়ে চার তরীকার ওপর ইজাযত লাভ করেন।

কর্ম জীবন :- ১৯৫৭ সালে তিনি হাইলাকান্দী সিনিয়র মাদরাসায় হিন্দি শিক্ষকরুপে কর্মজীবন শুরু করেন।এই মাদরাসায় সহ-শিক্ষক,পরে উপাধ্যক্ষ এবং ১৯৭৬ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়ীত্ব গ্রহণ করে সুদীর্ঘ ২০ বছর সুনামের সাথে অধ্যক্ষের আসন অলংকৃত করে ১৯৯৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন।তিনি একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকও ছিলেন।অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি ছাত্রদেরকে হোমিও চিকিৎসা শাস্ত্রের শিক্ষা দিতেন।গুয়াহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগে অধ্যাপনার আমন্ত্রণ পেয়েও তিনি তা গ্রহণ করেননি।এছাড়া গোওয়াহাটি কটন কলেজেও তাঁর অধ্যাপনার প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।তাঁর মুর্শিদ আল্লামা আবদুল জলীল চৌধুরী বদরপুরীর একান্ত ইচ্ছায় তিনি ১৯৭১ সাল থেকে কয়েক বছর বদরপুর টাইটেল মাদরাসায় মুসলিম শরীফ ও তিরমিযী শরীফের দারস দেন।১৯৯৬ সালে চাকুরী থেকে অবসর নিলেও তাঁর বাড়ীতে গিয়ে কাছাড় টাইটেল মাদরাসা,বদরপুর টাইটেল মাদরাসা ও হাইলাকান্দী সিনিয়র মাদরাসার ছাত্ররা বুখারী শরীফ ও মিশকাত শরীফের সবক নিতেন।এছাড়া তিনি তাঁর বাড়ীর মসজিদ,বদরপুর আলাকুলিপুর খানকাহ মসজিদসহ অসংখ্য স্থানে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে আল কুরআনের ধারাবাহিক তাফসীর করতেন।এসব তাফসীরে বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরামের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লীরাও অংশগ্রহণ করতেন।

অবদান :- ছাত্র জীবনেই তিনি বৃটিশ খেদাও আন্দোলনে স্বক্রিয় ছিলেন।আসামে এমারতে শরীয়াহ প্রতিষ্ঠায় তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান অনস্বীকার্য।তিনি উত্তর-পূর্ব ভারত তথা আসামের ৭ টি রাজ্যের মুসলিম জনসাধারণ ও বাংলাদেশের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের আধ্যাত্নিক রাহবার ছিলেন।শুধুমাত্র বাংলাদেশেই তাঁর একশত খুলাফা রয়েছেন।তিনি ১৯৮৯ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে মৃত্যু অবধি উত্তর-পূর্ব ভারতের দ্বিতীয় আমীরে শরীয়ত ছিলেন।এছাড়া হযরত বদরপুরী রহ. প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন নদওয়াতুত্ তামীরের আমীর (সভাপতি) ছিলেন।অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সনাল ল\’ বোর্ড,অল ইন্ডিয়া মজলিসে মুশাওয়ারাত,অল ইন্ডিয়া মিল্লী কাউন্সিল,ইন্ডিয়া ফিকহ একাডেমী ও দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামা লক্ষ্নৌ\’র মজলিসে শূরা সহ নিখিল ভারতের বিভিন্ন সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পদে আসীন ছিলেন।
আসাম টাইটেল মাদরাসা ফাইন্যাল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে কর্ম জীবনে বিশেষ পান্ডিত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে ১৯৭৫ সালে দেওরাইল টাইটেল মাদরাসার সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়।১৯৮২ সালে ভারত সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন কেন্দ্রীয় ওয়াকফ কাউন্সিল তাকে বিশেষ পারদর্শী শিক্ষকের স্বীকৃতি স্বরুপ পুরস্কৃত করে।১৯৮৭ সালে তিনি ভারত সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক জাতীয় পুরস্কারে পুরস্কৃত করা হয়।তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শ্রী বেঙ্কট রমন তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।শিক্ষার উন্নতির ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ১৯৯২ সালে তাকে রৌপ্যপদক প্রদান করা হয়।শিক্ষা,সমাজসেবা ও আধ্যাত্নিক ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১১ সনে তাকে \’মাওলানা আবদুল জলীল চৌধুরী মেমোরিয়াল এওয়ার্ড\’ প্রদান করা হয়।২০১৫ সালে তাকে নদওয়াতুল আযকার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে \’শায়খুল ইসলাম\’ উপাধি দ্বারা ভুষিত করে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

মৃত্যু তারিখ :- ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ৯ তারিখ তিনি সর্বশেষ বাংলাদেশ সফর করেন।বিগত ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখ দুপুর ১২ ঘটিকার সময় তিনির নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করেন।মাওলানা আবুল খায়ের মাহবুব বড়ভুইয়া তাঁর একমাত্র ছেলে ও এক মেয়ে রেখে যান।

তথ্য দানকারীর নাম :- মাওলানা মুখলিছুর রহমান,খলিফা,হযরত বড়ভুইয়া রহ.

তথ্য দানকারীর মোবাইল :- ০১৭১৬-৬৭৩৯৪২

Spread the love