সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

মাওলানা মুফতি মাহমুদ হাসান

October 31 2019, 08:39

Manual4 Ad Code

নাম :- আল্লামা মুফতি মাহমুদ হাসান

Manual1 Ad Code

জন্ম / জন্মস্থান :- চট্রগ্রাম জেলার ভূজপুর থানার পশ্চিম ভুজপুর গ্রামের কছির মুহাম্মদ সিকদার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনদার পরিবারে ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম।

Manual3 Ad Code

শৈশব কাল :- আল্লামা মুফতি মাহমুদ হাসান সাহেবের শৈশব কাটে নিজ জনস্থান চট্টগ্রাম জেলার ভূজপুরে। তিনি ছোটকাল থেকেই নম্র ভদ্র এবং শান্ত স্বভাবের ছিলো। এলাকার অন্য দশ জন ছেলের মত হৈ হুল্লোড় এবং খেয়ালীপনা করতেন না, সবকিছুতে আলাদা স্বভাবের ছিলো মাহমুদ হাসান।

Manual5 Ad Code

শিক্ষা জীবন :- প্রাথমিক শিক্ষা:
তিনি সর্বপ্রথম নিজ গ্রাম পশ্চিম ভূজপুর মুয়াজ্জিন পাড়াস্থ কছির মুহাম্মদ সিকদার জামে মসজিদ সংলগ্ন মকতবে হযরত মাওলানা ইসমাঈল সাহেব রহ. এর কাছে আলিফ-বা ও প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন।
অতঃপর স্থানীয় আব্দুল গণী মেম্বার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি হতে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত কৃতিত্বের সহিত সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি কাজিরহাট এমদাদুল ইসলাম মাদ্রাসা (বর্তমান আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া ভূজপুর) মাদরাসার তৎকালীন ছাত্র মাওলানা ফরিদুল আলম সাহেবকে গৃহ শিক্ষক নিয়ােগ দিলে তাঁর নিকট জামাতে ইয়াজদাহুম হতে নাহুম (৩য় জামাত) পর্যন্ত কিতাবসমূহ কৃতিত্বের সহিত পড়েন।

এরপর তারই সুযােগ্য নানা বাবুনগর নিবাসী আল্লামা আব্দুল হাই রহ. এর নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে জামিয়া বাবুনগরে ভর্তি হন। সেখানে তিনি একজন পরিশ্রমী ও মেধাবী এবং খােদাভীরু, ভদ্র ছাত্র হিসাবে নিজেকে পরিচিত করে তুলতে সক্ষম হন।
একনাগাড়ে হেদায়া আওয়ালাইন (নবম শ্রেণি) পর্যন্ত তিনি বাবুনগরেই কৃতিত্বের সহীত সম্পন্ন করেন।

তারপর ফুনুনাতের কিতাবাদী অধ্যায়নের জন্য দেশের বৃহত্তম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম হাটহাজারী মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে কিছুদিন অধ্যায়ন করার পর পুনরায় জামিয়া বাবুনগরে ভর্তি হয়ে মিশকাত ও দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন।

উচ্চতর শিক্ষা:
১৯৮০ সালে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেই উচ্চ ডিগ্রী অর্জনের উদ্দেশ্যে ১৯৮১ সালে পাকিস্তানে আল্লামা বিন্নুরী রহ. নিউ টাউন করাচী মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে ১৯৮১, ১৯৮২ ইংরেজী সনে দুই বৎসর তাখাচ্ছুছ ফিল ফিকহ অত্যন্ত সুনাম ও কৃতিত্বের সহিত সম্পন্ন করে নিজেকে একজন সুদক্ষ মুফতি ও ইসলামিক লয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
ফলে তিনি শিক্ষাগত যােগ্যতার ভিত্তিতে মুফতি সাহেব নামে আখ্যায়িত হন । এবং সকলের নিকট মুফতি সাহেব হুজুর নামে প্রসিদ্ধ হন।

কর্ম জীবন :- কর্মজীবন ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:
পাকিস্তান নিউ টাউন মাদ্রাসা হতে একজন সুদক্ষ মুফতি হিসেবে সনদ প্রাপ্ত হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন করলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাকে ফতােয়া বিভাগীয় প্রধান হিসেবে নিয়ােগ দেওয়ার যথেষ্ট চেষ্টা করলেও তিনি মুরুব্বীদের নির্দেশে এ দেশের প্রাচীন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া বাবুনগরে প্রধান মুফতি হিসেবে কর্মজীবনের সূচনা করেন।
বাবুনগর মাদরাসায় দীর্ঘ দিন সুখ্যাতির সহিত অধ্যাপনার পর ২০০১-২০০২ সালে দুই বৎসর নানুপুর ওবাইদিয়া মাদরাসায় মুহাদ্দিস হিসাবে শিক্ষকতা করেন।
অতঃপর মুরুব্বীদের ডাকে সাড়া দিয়ে ২০০২ সালের শেষে বাবুনগর মাদরাসায় পুনরায় একজন সিনিয়র মুহাদ্দিস ও প্রধান মুফতি হিসাবে আজ পর্যন্ত সুদীর্ঘকাল উলুমে নববীর খিদমতে রত আছেন। বর্তমান শাইখুল হাদীস ও প্রধান মুফতি হিসেবে জামিয়া বাবুনগরেই কর্মরত আছেন।

পাশাপাশি ১৪১৯ হিজরী মােতাবেক ১৯৯৯ ইংরেজি সনে নিজ বাড়ি সংলগ্ন পশ্চিম ভুজপুর আদর্শ নূরানী মাদ্রাসা নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে আল মা\’হাদুল ইসলামী বালক-বালিকা মাদরাসা নামে পরিচিত।

অবদান :- আল্লামা মুফতি মাহমুদ হাসান মঃজিঃআঃ একজন দেশের প্রথম সারির মুহাক্কিক আলেম। অবদানের কথা বলতে গেলে আজ পর্যন্ত তাঁর হাজারো ছাত্র দেশ বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মুফতি, মুহাদ্দিস, শিক্ষক, মুহতামিম এবং সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে।
একজন সফল মানুষের জীবনে এর চেয়ে বড় অবদান আর কি হতে পারে?

Manual4 Ad Code

তথ্য দানকারীর নাম :- সাংবাদিক মাওলানা আজগর সালেহী

Spread the love