সারা দেশের মাদ্রাসাসমূহ

মুফতি সাঈদ আহমদ

April 30 2019, 05:22


Manual6 Ad Code

নাম :- মুফতি সাঈদ আহমদ

জন্ম / জন্মস্থান :- 19/12/1354 বঙ্গাব্দ (২ মে ১৯৪৭)  শুক্রবার জুমার সালাতের পুর্বে হাজী এহসানুল্লাহ সওদাগর ও আসিয়া বেগম দম্পতির ঘর আলোকিত করে ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।

শৈশব কাল :- শৈশব তার মাতা পিতার স্নেহে নিজ বাড়িতেই কাটে।

Manual1 Ad Code

শিক্ষা জীবন :- ছয় বছর বয়সে তিনি লেমুয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। দুবছর পর তাকে রহিমপুর আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয় সেখানে তিনি জামাতে হাস্তুম পর্যন্ত পড়েন। পর তাকে মিরসরাইয়ের জামালপুর মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয় সেখানে তিনি জামাতে ছিয়ুম পর্যন্ত পড়েন এবং এত্তেহাদুল মাদারিসিল কাওমিয়ার অধীনে অংশগ্রহন করে পুরো বোর্ডে প্রথমস্থান অধিকার করেন তারপর পটিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে মিশকাত জামাত শেষ করেন।তারপর তিনি 1971 সালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় দাওরাতুল হাদীস ক্লাসে ভর্তি হন সেবছর যুদ্ধের কারনে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি এবং বার্ষিক পরীক্ষা কোন ঘোষনা ছাড়াই হঠাৎ অনুষ্ঠিত হয় এবং এর ফলাফল জানাও সম্ভব হয়নি।এরপর তিনি হাটহাজারিতেই তাফসীর বিভাগে ভর্তি হয়ে তাফসীর কোর্স শেষ করেন।

Manual3 Ad Code

কর্ম জীবন :- 1972 ঈসায়ীতে তিনি শিক্ষা জিবন শেষ করে তাঁর মুরশির শায়খ সোলতান আহমদ নানুপুরী রাহ.এর নির্দেশে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া আজিজিয়ায় মাদ্রাসায় মাত্র ষাট টাকা বেতনে খেদমতে নিয়োজিত হন যদিও হযরতকে পাঁচশত টাকা বেতনে হ্নীলা মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব হাটহাজারি মাদ্রাসার উস্তাদগন প্রস্তাব করেন তথাপি তিনি আপন মুরুব্বি-পীর এর পরামর্শ মেনে ছাগলনাইয়া আজিজিয়ায়ে খেদমতে যোগদান করেন কারণ ছাগলনাইয়া আজিজিয়া পনর বছরের পুরাতন মাদ্রাসা হলেও তার কোন উন্নতি হচ্ছিল না মাত্র দু\’তিনটি জামাত ছিলো কিন্তু তিনি যোগদান করে মাত্র সাত বছরে মিশকাত জামাত পর্যন্ত উন্নিত করে দুই বছর তাঁর শায়খের নির্দেশে 1400 হিজরির শাওয়াল মাসের পাঁচ তারিখে নানুপুর জামেয়া ওবায়দিয়াতে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং সেখানে ধীরে ধীরে মুহাদ্দিস,প্রধান মুফতি ও নাযেমে তা\’লীমাত এর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তাঁর মুরশিদ এর নির্দেশে ফেনী লালপোল এলাকায় আপন স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে ও তাঁর আব্বাজানের দান করা জমি বিক্রি করে কয়েক শতক জায়গা ক্রয় করেন এবং18/ 03/1408 হিজরীতে নানুপুরী রহ.এর মাধ্যমে লালপোল সোলতানিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। 1420 হিজরির বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সোলতান আহমদ নানুপুরী রহ. এর এন্তেকালের দুই বছর পর তারই পুর্বের নির্দেশে লালপোলে এসে লালপোল সোলতানিয়া স্থায়ীভাবে পরিচালনা শুরু করেন।ইতিপুর্বে তিনি নানুপুর অবস্থান করেই মাদ্রাসাটি পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি এখানে আসার মাত্র পাঁচ বছরের মাথা 1424 হিজরিতে দাওরায়ে হাদিসের জামাত খোলা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি মাদ্রাসা থেকে জামেয়াতে রূপান্তরিত হয়। এরপর থেকে মৃত্যূ পর্যন্ত তিনি অত্র জামেয়া পরিচালনা করেন এবং শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পালন করেন। অত্র জামেয়াতে নূরানী বিভাগ,হিফজ বিভাগ,কিতাব বিভাগ,ইফতা বিভাগ এবং তাজভীদ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

অবদান :- অবদান তিনি ফতোয়ার ময়দানে ছিলেন একজন বিজ্ঞ মুফতি।নানপুর থেকে প্রকাশিত মাসিক মদিনার সম্পাদক ছিলেন এবং প্রতি মাসে চল্লিশটি ফতোয়ার উত্তর লিখতেন। ্তিনি এরশাদের আমলে সরকারের যাকাত ফান্ড গঠন করা ওয়াকফিয়া সম্পত্তি সরকারের আয়ত্তে আনা ইত্যাদি বিষয়ে ফতওয়া প্রদান করে আলোডন সৃষ্টি করেন যার বিস্তারিত বিবরণ তাঁর জিবনীগ্রন্থ \”মুফতি সাঈদ আহমদ রাহ.এর জিবন ও আদর্শ\”গ্রন্থে রয়েছে। তিনি হাটহাজারির মুফতি বোর্ড,পটিয়ার মুফতি বোর্ড,বসুন্ধরা মুফতি বোর্ড এবং পাকিস্তানের জামেয়া বানূরি করাচির মুফতি এ্যাসোসিয়েশনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথিতযশা মুফতি হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন। ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুফতি সেমিনারে বাংলাদেশের চারজন মুফতির একজন সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তার ফতোয়া জমহুরের ফতোয়ার সাথে মিলে যায় পরে আরও একবার দেওবন্দে আন্তর্জাতিক সেমিনারে দাওয়াত পান এবং অংশগ্রহন করেন। তাবলীগ জামাতে সাদ সাহেব সংক্রান্ত অস্থিরতা আরম্ভ হলে তিনি সর্বপ্রথম ফেনী জেলার সব সূরা সদস্যকে ডেকে এনে দারুল উলুম দেওবন্দের মাসলাকের উপর থাকার তাকিদ দেন। সব বাতেলের মোকাবেলায় তিনি অগ্রগামী এজন্য তিনি খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই ব্যানারে মাযারপূজারি,বিদআতি এবং লামাযহাবিসহ সকল বাতেল ফেরকার বিরুদ্ধে মোবাহাসা মােনাযারার আয়োজন করে সবগুলোতে হকের পক্ষে বিজয় চিনিয়ে আনেন। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেন যার কয়েকটি 1.মাযহাব মানা ওয়াজিব কেন 2. সোলতান আহমদ নানুপুরী রহ.এর জিবন ও আদর্শ 3.আল্লাহর যিকির রূহের খোরাক 4.তারাবির নামায বিশ রাকাত সুন্নতে মোয়াক্কাদা 5.নিম্ন স্বরে আমীন বলা মুস্তাহাব 6.ইসলামের দৃষ্টিতে দাড়ি 7.চেয়ারে সে সালাত আদায়ের ফতোয়া 8.জিকরে জলী ওখপী 9.ওয়াহী কে সুন্নী কে? 10.শরয়ী পর্দা 11.মহিলাদের জামাতে শরীক হওয়ার ফতোয়া ইত্যাদি ছাড়াও হযরতের নয়টি ইসলাহি বয়ান প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক রাহবার সোলতান আহমদ নানুপুরী রহ.এর অন্যতম খলিফা। হাজার হাজার ওলামা তালাবা তার হাতে বায়আত নিয়ে নিজেদের আত্নশুদ্ধি করেছেন সারা দেশব্যাপি তার মুরিদদের মধ্যে বেশির ভাগই আলেম ওলামা ছিলেন। তার 118 জন খলিফা দেশব্যাপি ছড়িয়ে আছেন যারা সবাই দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত এছাড়াও দক্ষিন আফ্রিকার দারুল কুরআন কমপ্লেক্স এর পরিচালক মাও সলীম করীম ও দেওবন্দের শায়খুল হাদীস আবদুল হক আজমী রাহ.এর সাহেবজাদা হাফেয মাও.আবদুল বার আজমী সাহেবও তাঁর খলিফা। তিনি দেশব্যাপি ওয়াজ মাহফিলে মানুষের আত্নশুদ্ধির চেষ্টা করে গেছেন। মাহফিলের জন্য দেশের প্রায় সব জেলাতেই ভ্রমন করেছেন এবং মানুষকে বায়আত করেছেন এজন্য সারা দেশেই তাঁর মুরিদান ও শিষ্যরা ছড়িয়ে আছেন। তিনি তাঁর ছাত্র ও মুরিদদেরকে এই নসীহত সর্বদা যে তোমরা মাহফিলে যাওয়ার সময় আসা যাওয়ার ভাড়া নিয়ে যাবে মাহফিল কতৃপক্ষের কাছে টাকা চাইবেনা কেউ দিলে তা খুলে দেখবেনা। তিনি পটিয়া ও ওলামাবাজার মাদ্রাসাসহ দেশের অনেক বড় ছোট প্রতিষ্ঠানের শূরাপ্রধান ও শূরা সদস্য ছিলেন। মাদ্রাসাগুলো অনেক জটিল সমস্যার সমাধান সহজেই করে ফেলতেন।

Manual5 Ad Code

মৃত্যু তারিখ :- মৃত্যূকালে তিনি তার প্রতিষ্ঠিত একাধিক দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও তার হাজার হাজার ছাত্র মুরিদ আলেম ওলামা স্ত্রী পাঁচ ছেলে সাত মেয়ে রেখে 23/4/2018 সালে রোজ সোমবার সকাল 9.40 মিনিটে তাঁর প্রতিষ্ঠিত জামেয়াতে উপরের দিকে শাহাদাত আঙ্গুল উঠিয়ে আশহাদুআন লা ইলাহা ইলাাল্লাহ…কালিমা পড়ে মহান রবের ডাকে দেন। ইন্নাাা লিল্লাাাহি ওয়া ইন্নাাা ইলাহি রাজেউন।

তথ্য দানকারীর নাম :- নিজামুদ্দীন, শিক্ষক, জামেয়া ইসলামিয়া সোলতানিয়া লালপোল ফেনী।

তথ্য দানকারীর মোবাইল :- 01830163371

Manual3 Ad Code

Spread the love