হযরত মাওলানা নজির আহমদ রামুবী রহ.
September 01 2026, 05:47
নাম :- হযরত মাওলানা নজির আহমদ রামুবী রহ.
জন্ম তারিখ- জন্মস্থান :- ১৯১৯ ইং সাল। রামু উপজেলার “উমখালী‘ গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।
শৈশব কাল :- তাঁর শৈশবকাল মা-বাবার স্নেহছায়ায় কাটে। দ্বীনি পরিবারে জন্ম হওয়াতে তিনি শৈশবকাল থেকেই ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতেন।
শিক্ষা জীবন :- স্থানিয় মক্তবে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের পর বাঁশখালী পুইছড়ী মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে মিশকাত পর্যন্ত অত্যন্ত কৃতীত্বের সাথে লেখা-পড়া শেষ করেন। আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেছেন জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কুতুবে আলম আল্লামা মুফতি আজিজুল হক সাহেব রহ, এর কাছে। তাঁর সান্নিধ্যে থেকে আধ্যাত্মিকতা ও সাধনার ময়দানে অনেক দুর এগিয়ে গিয়েছিলেন। মুফতি সাহেব হুজুরের ইন্তেকালের পর তিনি হযরতের প্রধান খলীফা জামিয়া ইসলামিয়া বাবুনগরের প্রতিষ্ঠাতা আরিফে রাব্বানী আল্লামা শাহ হারুন বাবুনগরী রহ. এর দিকে রুজু করেন এবং তার কাছে রিয়াজত-মোজাহাদার বাকী সবক সম্পন্ন করে খেলাফত লাভে ধন্য হন। তিনি ছিলেন হযরত বাবুনগরী রহ. এর খলীফাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও তীক্ন বুদ্ধি সম্পন্ন আলেম। নিজের জেঠাত ভাইয়ের ফরায়েজ দেখে ইলমুল ফারায়েজে ভুতপত্তি অর্জন করেছিলেন।
কর্ম জীবন :- রামু থানার অন্তর্গত গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড়বিল গ্রামে কেন্দ্রীয় মসজিদের খতীব ও ইমাম হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। দীর্ঘ ৩০ বছর পর্যন্ত সেখানে খতীব ও ইমামের দায়িত্ব আন্জাম দেন। তিনি জমিনে চাষাবাদ করতেন। ব্যবসাও করতেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিতসার মাধ্যমে মানুষের সেবা করতেন। দ্বীনি বিষয়ে, পারিবারিক আইনের বিষয়ে ফাতওয়া প্রদান করতেন। অনেক মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। কয়েকটি মাদ্রাসায় পরচালনার দায়িত্ব আদায় করেছেন।
অবদান :- ইলমে দ্বীনের প্রচার-প্রসার, দ্বীনি দাওয়াতকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া, তালীম-তারবিয়তের মাধ্যমে মানুষকে নেক ও দ্বীনদার হিসেবে গেড়ে তোলা, ওয়াজ-নসীহতের মাধমে পথহারা লোকদেরকে পথের দিশাদান, দেশের বরেণ্য আলেম ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের অঞ্চলে নিয়ে এসে তাদের ওয়াজ-নসীহত ও সুহবতের মাধ্যমে লোকদেরকে আল্লাহমুখী করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করে মুসলিম ছেলে-মেয়েদেরকে দ্বীনের সঠিক জ্ঞানে গুণি করে তোলার অভিপ্রায় ইত্যাদি তাঁর ভুমিকা ছিল খুবই বিরল। সারা জীবনটা তিনি ইলমী, দ্বীনি ও দাওয়াতী কাজের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। ১৯৫৬ ইংরেজী সালে তিনি বড়বিল গ্রামের তোলাতলি স্থানে পটিয়ার মুফতি সাহেব হুজুরের তত্ত্বাবধানে `মাদ্রাসা আজিজিয়া কাসেমুল উলূম‘ নামে একটি দ্বীনি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা সেখানে দ্বীনি ইলম অর্জনে ধন্য হন। কিছুদিন চলার পর মাদ্রাসা বিলুপ্ত হয়েগেলে ১৯৮২ সালে তাঁর পীরভাই মাওলানা মুহাম্মদ আহমদ সাহেবকে সহযোগিতা দিয়ে উভয় মিলে গর্জনিয়ার বোমাংখিল নামক স্থানে `মাদ্রাসা আজিজিয়া কাসেমুল উলুম‘ নামে আর একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি অনেক দিন পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন। সেই মাদ্রাসা এখনো বিদ্যমান আছে আলহামদু লিল্লাহ। এই মাদ্রাসা থেকে এনক হাফেজ আলেম তৈরী হয়েছেন। তারপর কিছু দিন তিনি ঈদগড় হাফেজিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় মুহতামিম ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব আদায় করেন। সর্বশেষ ১৯৮২ সালে তিনি নিজ গ্রামে উত্তর বড়বিলে `এমদাদিয়া আজিজুল উলুম মাদ্রাসা‘ নামে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত এই মাদ্রাসার পরিচালক ছিলেন তিনি। কক্সবাজার জেলার সুপ্রসিদ্ধ শিক্ষা ও সেবা মূলক সংগঠন `আল-নজির ফাউন্ডেশন‘ মূলত: উনার নামেই নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর ছেলে মাওলানা হারুন আজিজী নদভী পিতার অবিস্মরণীয় দ্বীনি খেদমাতকে স্মরণীয় বরণীয় করে রাখার মানসে এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এই পর্যন্ত ফাউন্ডেশন শিক্ষা ও সেবার ক্ষেত্রে নজীরবিহীন ভূমিকা রেখেছেন।
মৃত্যু তারিখ :- ১১ ই রজব ১৪১৬ হি: মোতাবেক ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৫ ইং সালে তিনি মাওলার ডাকে সাড়া দিয়ে ইহজগত ত্যাগ করেন।
মোবাইল :-
তথ্য দানকারীর নাম :- মুহাম্মদ হারুন আজিজী নদভী
তথ্য দানকারীর মোবাইল :- +৮৮০১৮৩৬৮০১২০৬